স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের প্রথম দিকের প্রশ্ন থাকে—ফোনে কত জিবি র্যাম রয়েছে? অনেকের ধারণা, র্যাম যত বেশি, ফোন তত দ্রুত কাজ করবে। এ ধারণাকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও ৮, ১২ কিংবা ১৬ জিবি র্যামের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়। তবে বাস্তবে ফোনের পারফরম্যান্স নির্ভর করে শুধু র্যামের ওপর নয়; প্রসেসর, স্টোরেজ, সফটওয়্যার ও অপটিমাইজেশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। র্যাম মূলত স্মার্টফোনের অস্থায়ী মেমোরি। একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালু রাখা এবং এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার পর আগের কাজ দ্রুত ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়তা করে। র্যাম বেশি থাকলে অ্যাপ পুনরায় লোড হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। তবে এটি সরাসরি অ্যাপের গতি বাড়ায় না। ফোনের সামগ্রিক গতি নির্ধারণে প্রসেসরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গেমিং, ভিডিও সম্পাদনা ও ক্যামেরার ছবি প্রক্রিয়াকরণের মতো ভারী কাজে প্রসেসরের সক্ষমতা বেশি প্রয়োজন হয়। তাই শুধু র্যামের পরিমাণ না দেখে স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি, অ্যাপল এ-সিরিজ কিংবা এক্সিনোস চিপের মডেল ও প্রজন্ম বিবেচনা করা উচিত। স্টোরেজের ধরনও ফোনের গতিতে প্রভাব ফেলে। ইএমএমসি তুলনামূলক ধীর হলেও ইউএফএস ২.২, ৩.১ ও ৪.০ ক্রমান্বয়ে দ্রুতগতির স্টোরেজ সুবিধা দেয়। ফলে অ্যাপ চালু, গেম লোড এবং ফাইল স্থানান্তরে সময় কম লাগতে পারে। আরও পড়ুন, ফোন নম্বর ছাড়াই যোগাযোগ, হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ইউজারনেম ফিচারএ ছাড়া সফটওয়্যারের মান ও অপটিমাইজেশনের কারণেও একই র্যামের দুটি ফোনের পারফরম্যান্সে পার্থক্য দেখা যায়। অন্যদিকে, ভার্চুয়াল বা এক্সটেন্ডেড র্যাম মূলত স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করে। এটি প্রকৃত র্যামের সমতুল্য নয়। সাধারণ ব্যবহারের জন্য ৬ জিবি র্যাম অধিকাংশ ব্যবহারকারীর প্রয়োজন মেটাতে পারে। একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালানো বা গেম খেলার ক্ষেত্রে ৮ জিবি কিংবা তার বেশি র্যাম সুবিধা দিতে পারে। তবে ১৬ জিবি র্যাম সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। ফোন কেনার আগে প্রসেসর, স্টোরেজ, পর্দার রিফ্রেশ রেট, ব্যাটারি, সফটওয়্যার আপডেট, ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সুবিধা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মডেলের বাস্তব ব্যবহারের রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো। অর্থাৎ বড় র্যামের সংখ্যা নয়, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সব দিক বিবেচনা করেই স্মার্টফোন নির্বাচন করা উচিত।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।