লামায় আইনশৃঙ্খলা, পরিবেশ রক্ষা ও জনসেবায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ
লামা উপজেলা যোগদানের পর থেকেই অবৈধ ইটভাটা, পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাত-দিন নির্বিশেষে অভিযান পরিচালনা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার বেশি সরকারি রাজস্ব আদায়, পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়ন করা হয়।পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ইটভাটা, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন, জমি খনন, ভূমিদস্যুতা ও নানা ধরনের সিন্ডিকেটের কবলে ছিল। প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা আর প্রভাবশালী মহলের দৌরাত্ম্যে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ছিল মারাত্মক হুমকির মুখে। ঠিক এমন এক সময় লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন রুবায়েত আহমেদ। যোগদানের পর থেকেই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। তিনি লামা উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর রুবায়েত আহমেদ প্রথমেই নজর দেন অবৈধ কার্যক্রমের দিকে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাত-দিন নির্বিশেষে অভিযান পরিচালনা করেন। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে, বালু উত্তোলন রোধে এবং অবৈধ জমি খননের বিরুদ্ধে একের পর এক মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।বিশেষ করে পাহাড় কাটার মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে তিনি ুজিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেন। স্থানীয়রা জানান, আগে যেখানে রাতের আঁধারে পাহাড় কাটা হতো, সেখানে এখন প্রশাসনের উপস্থিতিতে কেউ সেই সাহস পায় না।এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রুবায়েত আহমেদ প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার বেশি সরকারি রাজস্ব আদায় করেছেন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। এই রাজস্ব শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, বরং এটি প্রমাণ করে আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে রাষ্ট্র যেমন লাভবান হয়, তেমনি অনিয়মকারীরাও নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অবৈধ ইটভাটা, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন, বালু উত্তোলন ও ভূমি দখলের দায়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।লামা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সিন্ডিকেট যারা বালু, ইট, পাহাড় কাটা ও ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান চালান রুবায়েত আহমেদ। এতে করে বাজারে দ্রব্যমূল্যের অনিয়ম কমে আসে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেতে শুরু করে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য, আগে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী সব নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন প্রশাসনের নজরদারিতে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। এমনকি পরিবেশ রক্ষায় রুবায়েত আহমেদের ভূমিকা লামা উপজেলায় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। পাহাড় কাটা বন্ধ হওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি কমেছে, বন উজাড় রোধ হয়েছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে।তিনি একাধিকবার বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন কখনো টেকসই হতে পারে না। এই নীতির আলোকে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমি সংক্রান্ত বিষয় সাধারণ মানুষের জন্য বরাবরই জটিল ও ভোগান্তির। তবে রুবায়েত আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ভূমি অফিসে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। তিনি নিজে সরজমিনে গিয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, সীমানা নির্ধারণ ও অভিযোগ খতিয়ে দেখেন। আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের চেষ্টা করেন এবং অযথা হয়রানি বন্ধে কঠোর হন। শুধু তাই নয় অনেক পুরোনো ও ঝুলে থাকা ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও কাজ নিষ্পত্তি হয়েছে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।লামা ভূমি অফিসে সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ যেমন: (১) দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিতকরণ (২) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি ও খতিয়ান সংক্রান্ত কাজ (৩) সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার (৪) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি। ফলে ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে বহুগুণ। বর্তমানে লামা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এখানেও তার কাজের ধারা প্রশংসিত।ফাঁসিয়াখালিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়ন চলছে।আরও পড়ুন, মেহেরপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টাসম্প্রতি, এলাকার ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে শহীদ জিয়া স্কুলের মাঠ সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই মাঠ সংস্কার হলে স্থানীয় তরুণ ও খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে ক্রীড়া প্রতিভা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ, পরিবেশ রক্ষা, সিন্ডিকেট দমন ও জনবান্ধব সেবার মাধ্যমে রুবায়েত আহমেদ লামা উপজেলার সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নিয়েছেন।স্থানীয় নুরে আলম নামের এক বাসিন্দা বলেন, এমন কর্মকর্তা আগে দেখিনি। অভিযোগ দিলেই তিনি ব্যবস্থা নেন। লামা উপজেলায় রুবায়েত আহমেদের কার্যক্রম প্রমাণ করে সততা, দায়িত্ববোধ ও সাহস থাকলে প্রশাসনের মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব। তার মতো কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করলে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। লামা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদের কর্মকাণ্ড আজ প্রশাসনের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। পরিবেশ রক্ষা থেকে শুরু করে ভূমি সেবা ও উন্নয়ন সবখানেই তার দৃঢ়তা ও সততার ছাপ স্পষ্ট। এভাবেই দায়িত্বশীল প্রশাসনের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।