পাশ করেও ফেল দেখানোয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র ক্ষোভ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সি’ ইউনিটের অবিজ্ঞান শাখার ফলাফলে বড় ধরনের ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। এতে পাশ করা কয়েকশ শিক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা ফলাফল বাতিল ও পুনরায় প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও অবিজ্ঞান শাখার জন্য আলাদা শর্ত ছিল। উভয় শাখায় পাশ নম্বর ৪০ হলেও বিজ্ঞান শাখায় অতিরিক্ত বাধ্যতামূলক নম্বরের শর্ত ছিল। তবে অবিজ্ঞান শাখায় সেই শর্ত না থাকলেও ফল প্রকাশে ভুলভাবে তা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন কোটায় আসন ফাঁকা থাকায় সাধারণত পাশ নম্বর পেলেই ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এবার পাশ নম্বরের বেশি নম্বর পেয়েও অনেক শিক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে কোটাধারীরাও রয়েছে বলে অভিযোগ।আরও পড়ুন, ছাত্রদল সংঘর্ষের মধ্যে ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিককে মারধরএক শিক্ষার্থী হুমায়রা আক্তার লিজা পরীক্ষায় ৫৪ দশমিক ৫০ নম্বর পেলেও তাকে ফেল দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কঠোর পরিশ্রম করেও কোথাও ভর্তি সুযোগ পাননি। তার অভিযোগ, সঠিকভাবে ফল প্রকাশ হলে তিনি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতেন। আরেক শিক্ষার্থী শেখ সাইমুজ্জামান পরীক্ষায় ৪৬ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়েছেন এবং খেলোয়াড় কোটা থাকার পরও তাকে ফেল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার। তার বাবা আকরামুজ্জামান বলেন, তার ছেলেকে প্লেয়ার কোটার সাক্ষাৎকারেও ডাকা হয়নি, যা অনিয়ম বলে তিনি দাবি করেন।আরও পড়ুন, পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর গুজব—শিক্ষা মন্ত্রণালয়এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম জানান, তাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ‘সি’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মিটিং ডাকা হয়েছে এবং সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান জানান, আগামী রোববার এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।