দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক তরুণীকে ঘিরে বিপাকে পড়েছিলেন ব্রিটিশ যুদ্ধমন্ত্রী

১৯৬৩ সালের যুক্তরাজ্য। স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে দেশটির যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জন প্রোফুমোর একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক ঝড়। পার্লামেন্টে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ পায় তাঁর বক্তব্য ছিল অসত্য। সেই ঘটনা শুধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনই শেষ করেনি, বরং ব্রিটিশ সরকারের ভাবমূর্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি করেছিল বড় বিতর্ক। ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টিন কিলার। ৪৮ বছর বয়সী বিবাহিত মন্ত্রী প্রোফুমোর সঙ্গে ১৯৬১ সালে বাকিংহামশায়ারের ক্লাইভডেন এস্টেটে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একই সময়ে কিলারের পরিচয় ছিল লন্ডনে নিযুক্ত সোভিয়েত নৌ-অ্যাটাশে ইয়েভগেনি ইভানভের সঙ্গেও। ফলে বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রূপ নেয়। ১৯৬২ সালের শেষ দিকে কিলারের সাবেক প্রেমিক জনি অ্যাজকম্ব স্টিফেন ওয়ার্ডের ফ্ল্যাটের বাইরে গুলি চালালে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে।আরও পড়ুন,নিহতদের তালিকায় শুধু আমার নামটি ওঠেনি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার সূত্র ধরে সামনে আসে প্রোফুমো ও কিলারের সম্পর্কের বিষয়টি। ১৯৬৩ সালের ২২ মার্চ হাউস অব কমন্সে প্রোফুমো অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু মে মাসে স্টিফেন ওয়ার্ডের বিচার চলাকালে সম্পর্কের নানা তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে। ৪ জুন প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলানকে নিজের আগের বক্তব্য অসত্য বলে জানান প্রোফুমো। পরদিন ৫ জুন তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পার্লামেন্ট সদস্যপদও ছেড়ে দেন। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিচারক লর্ড ডেনিংকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৬৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি জানান, ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেলেঙ্কারির পর রাজনীতি ছেড়ে সমাজসেবায় যুক্ত হন প্রোফুমো। অন্যদিকে কিলারকে নানা বিতর্ক ও ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হয়। ২০০৬ সালে ৯১ বছর বয়সে প্রোফুমো এবং ২০১৭ সালে কিলার মারা যান। প্রোফুমো-কাণ্ড ব্রিটিশ রাজনীতিতে সত্য গোপন ও সংসদের কাছে জবাবদিহির এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, ক্ষমতাসীন একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়ও যখন পার্লামেন্টে অসত্য বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা জাতীয় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

এক তরুণীকে ঘিরে বিপাকে পড়েছিলেন ব্রিটিশ যুদ্ধমন্ত্রী