সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, অশ্লীলতা ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য যেন নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে চরিত্রহনন এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে শুরু করে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ ধরনের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনলাইন স্পেসে সম্মানজনক মতপ্রকাশ এখন কঠিন হয়ে উঠেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অগণিত স্বল্পস্থায়ী ভিডিও ও কনটেন্ট সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে পরিচালিত ‘বট বাহিনী’ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।আরো পড়ুন , সেতু না টানেল? সম্ভাব্য এলাইনমেন্ট পরিদর্শনে সেতু সচিবঅভিযোগ উঠেছে, গালাগাল ও ঘৃণামূলক বক্তব্যকে ‘বাকস্বাধীনতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা চলছে। ফলে প্রতিবাদের ভাষা ক্রমেই অশ্লীলতা ও বিদ্বেষে রূপ নিচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির পরিবার সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তিকেও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল মন্তব্যে ভরে উঠছে শোকের সংবাদও।অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তথ্যভিত্তিক পোস্টেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একজন নারী নভোচারীকে নিয়ে করা তথ্যবহুল পোস্টে অশালীন মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দেয় কিছু ব্যবহারকারী। এতে প্রশ্ন উঠেছে—ডিজিটাল যুগে আমরা কতটা শিক্ষিত ও মানবিক?লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদও জানিয়েছেন, একসময় তিনি নিয়মিত সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মতামত দিতেন। কিন্তু এখন অশালীন আক্রমণ ও ট্রলের কারণে তা থেকে বিরত থাকছেন।