দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহত্তর চট্টগ্রামে সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব ঘিরে চলছে জোর আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশিত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। তবে এর আগেই সারাদেশের মতো বৃহত্তর চট্টগ্রামেও নতুন সরকার ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনা। কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, কারা থাকছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে এসব প্রশ্ন ঘিরে দলীয় অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও চলছে নানা জল্পনা।অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সম্ভবত আগামী ১৬ অথবা ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে।নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সংসদ নেতা হচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বিজয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই পাঁচ জেলা নিয়ে গঠিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মোট ২৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই রয়েছে ১৬টি আসন, যার মধ্যে ১৪টিতে দলটি বিজয়ী হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশে ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ড আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে।এই ফলাফলকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, নতুন মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব এবারও দৃশ্যমান হবে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে। অতীতে যাঁরা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং যাঁদের সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এমনকি যাঁরা এবার মনোনয়ন পাননি, তাঁদের মধ্য থেকেও যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদেরও এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় অনির্বাচিত পেশাজীবী ও জোটসঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।আরো পড়ুন , ঢাকা-১৬ আসনে ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ও জালিয়াতির অভিযোগ আমিনুল হকের২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ মোট ১০ জন স্থান পেয়েছিলেন। সে সময় পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান, এম. মোরশেদ খান এবং প্রয়াত এল কে সিদ্দিকী।প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন মনি স্বপন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন প্রয়াত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আর জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম।কারা এগিয়ে?বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় অঙ্গনে সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে যাঁদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন,আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১১),সালাহউদ্দিন আহমেদ (কক্সবাজার-১),ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫),,রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী (বান্দরবান),দীপেন দেওয়ান (রাঙামাটি)।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া বলেন, “অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও বন্দরনগরী জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পাবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন এখন আর শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।”তিনি নতুন সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক উন্নয়ন এবং একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রণীত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হবে।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের মর্যাদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার যোগ্য ও দক্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেবে। এর ফলে অবকাঠামো, শিল্প ও বাণিজ্যে চট্টগ্রামের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে।”নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ঘিরে বৃহত্তর চট্টগ্রামে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা শুধু দলীয় নয় সাধারণ মানুষের মাঝেও নতুন উন্নয়ন সম্ভাবনার আশা জাগাচ্ছে। এখন দৃষ্টি শুধু একটাই কে পাচ্ছেন দায়িত্ব, আর চট্টগ্রামের ভাগ্যে কী লেখা হচ্ছে নতুন সরকারের হাত ধরে।

বৃহত্তর চট্টগ্রামে সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব ঘিরে চলছে জোর আলোচনা