জরিমানার-সিলগালার পরও থেমে নেই শাহীনের ‘ভেজাল ঘি'র সাম্রাজ্য’ নীরব ভুমিকায় প্রশাসন
চট্টগ্রামে প্রশাসনের জরিমানা ও কারখানা সিলগালা করার পরও থেমে নেই ভেজাল ঘি উৎপাদনকারী একটি চক্রের দৌরাত্ম্য। অভিযোগ উঠেছে, অদৃশ্য প্রভাব ও নানা মহলকে ম্যানেজ করে স্থান পরিবর্তন করে আবারও বীরদর্পে ভেজাল ঘি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে শাহিন নামের এক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর ২০২৪ চট্টগ্রামের পশ্চিম মোহরা ধুপপোল এলাকায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। সে সময় চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউছুফ হাসান এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একটি টিনশেড ভবনের চারটি কক্ষে অপরিষ্কার পরিবেশে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়।আরও পড়ুন, সাভারে আবাসিক হোটেল ঢাকা ইন এর সাথে পুলিশের বাণিজ্যঅভিযানে দেখা যায়, খোলা বাজার থেকে সংগৃহীত পাম অয়েলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ আসল ঘি মিশিয়ে বিভিন্ন নামসর্বস্ব কোম্পানির লেবেল ব্যবহার করে ভেজাল ঘি তৈরি করা হচ্ছিল। প্রতি ৪-৫ কেজি পাম অয়েলের সঙ্গে মাত্র ১ কেজি ঘি মিশিয়ে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল এসব পণ্য। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত প্রায় ৩০০ কেজি ভেজাল ঘি ও ৭০০-৮০০টি খালি ক্যান জব্দ করে ধ্বংস করে। পাশাপাশি আই কিউ ফুড প্রোডাক্টস নামের ওই কারখানাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে সিলগালা করা হয়।কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের ওই অভিযানের কিছুদিন পরই কারখানাটি স্থান পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে চান্দগাঁও থানার আমগাছতল/গোয়ালিয়ার ঘাটার রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে ভেজাল ঘি উৎপাদন চলছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।সূত্রের দাবি, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে এই কারখানায় ভেজাল ঘি উৎপাদন আরও বাড়ানো হয়েছে। এসব ঘি তৈরিতে দুধের কোনো উপাদানই ব্যবহার করা হয় না। বরং পাম অয়েল, ডালডা, সুজি, কৃত্রিম রং, এমনকি ফেভিকলের আঠা ও বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে চুলায় রান্না করে তৈরি করা হচ্ছে কথিত ঘি।আরও পড়ুন, ঘুষ ছাড়া দলিল স্বাক্ষর হয়না গাজীপুর সাব- রেজিস্ট্রি ভবনে, নাচের পুতুল সাব-রেজিস্টারঅভিযোগ রয়েছে, এসব ভেজাল ঘি শুধু চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিয়ের ক্লাবেই সরবরাহ করা হচ্ছে না বরং সিন্ডিকেটের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভেজাল খাদ্য দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হওয়ায় এবং বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার সুযোগ পেয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে কারখানা বন্ধ ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. শাহিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের বিএসটিআই অনুমোদন রয়েছে। তবে বিস্তারিত বিষয়ে কথা বলতে তিনি পরে সরাসরি দেখা করার প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় করেই বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রমজান ও ঈদ মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ভেজাল খাদ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।