রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পর অবশেষে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। গত ১৫ মার্চ সংবাদ দিগন্ত পত্রিকায় প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।আরও পড়ুন, সকাল ৯টা থেকে ৪০ মিনিট নিজ কক্ষে অবস্থান বাধ্যতামূলক - জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়রবিবার (২৯ মার্চ) গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে পাঠানো ওই নোটিশে তাকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হলেও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি একাধিক কার্ডের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করেছেন।আরও পড়ুন, বাগেরহাটের শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুস্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকেই চাল পাননি। তারা তালিকা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম বলেন, সংবাদটি প্রকাশের পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, সরকারের সহায়তা কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। নোহালী ইউনিয়নের ঘটনায় চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। তার জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রকৃত অসহায়দের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।