দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বিদায় হজ ও ঐতিহাসিক খুতবাতুল বিদা

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ৬৩ বছরের জীবনে মাত্র একবার হজ পালন করেন। ইসলামের ইতিহাসে সেই হজই পরিচিত ‘বিদায় হজ’ নামে, যা ছিল তাঁর জীবনের প্রথম ও শেষ হজ। দশম হিজরির শেষ দিকে মহানবী (সা.) হজ পালনের ঘোষণা দিলে মদিনায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। সাহাবায়ে কেরাম দলে দলে তাঁর সঙ্গে হজে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। পরে বিপুল সংখ্যক মুসলমান তাঁর সঙ্গে এই পবিত্র সফরে যুক্ত হন।আরও পড়ুন, অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপিইতিহাস অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ২৫ তারিখে মহানবী (সা.) সাহাবিদের নিয়ে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। পথে আরও অসংখ্য মুসলমান এই কাফেলায় যোগ দেন। প্রায় সোয়া লাখ সাহাবি নিয়ে তিনি জিলহজ মাসের ৫ তারিখে মক্কায় পৌঁছান। এরপর ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা ‘খুতবাতুল বিদা’ বা বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত।আরও পড়ুন, লামায় স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা, নেই প্রশাসনিক অভিযানএই ভাষণে তিনি মুসলমানদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, মুসলমানরা একে অপরের ভাই, কারও ওপর কারও শ্রেষ্ঠত্ব নেই; আল্লাহর কাছে সবাই সমান। তিনি নারী-পুরুষের পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অন্যায়, শিরক, চুরি, মিথ্যা ও ব্যভিচার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানুষের জান-মাল ও সম্মানের পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেন। দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারের ওপরও তিনি জোর দেন।আরও পড়ুন, মসজিদের পানি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার কি জায়েজ?মহানবী (সা.) বলেন, ধর্মে বাড়াবাড়ি অতীত জাতিগুলোর ধ্বংসের কারণ হয়েছে। তিনি মুসলমানদের সতর্ক করে বলেন, কোরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরলে তারা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তিনি আরও ঘোষণা দেন, তাঁর পর আর কোনো নবী আসবেন না এবং তিনি আল্লাহর শেষ রাসুল। ভাষণের শেষে তিনি আল্লাহর উদ্দেশে বলেন, তিনি তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে পেরেছেন কি না—এই সাক্ষ্য চেয়ে দোয়া করেন। উপস্থিত সাহাবিরা একবাক্যে উত্তর দেন, “নিশ্চয়ই।”

বিদায় হজ ও ঐতিহাসিক খুতবাতুল বিদা