বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ রাজনীতি এবং অনুপ্রবেশ ও প্রক্সি সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই মূলত এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ১ অক্টোবর ফেনীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেন যে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, সেই গুপ্ত চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্নভাবে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে দেওয়া এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজপথে ত্যাগ স্বীকার করা দলগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের তকমা দেওয়া অনভিপ্রেত। অন্যদিকে, সরকারের অন্য শরিক দলের নেতারাও প্রক্সি রাজনীতি ও বেনামি সংগঠনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলছেন।আরোও পড়ুন,নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ হবে না জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্লেষকদের মতে, মূলত রাজনৈতিক কৌশল এবং ভিন্ন দলের অন্দরমহলে অনুপ্রবেশের নানা অভিযোগ থেকেই এই গুপ্ত রাজনীতির প্রসঙ্গটি সামনে আসছে। অতীতে নিষিদ্ধ বা আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির যে ধারা ছিল, বর্তমান সময়ে তার রূপ পরিবর্তন হয়ে বিভিন্ন কৌশলী ও অপ্রকাশ্য তৎপরতায় রূপ নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই গুপ্ত-সুপ্ত রাজনীতির সংস্কৃতি রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও বেশি দূরত্বে ঠেলে দিচ্ছে এবং দলের ভেতরেও আস্থার সংকট তৈরি করছে। একে অপরকে সন্দেহ করার এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।