জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা: সংসদে পাস ‘সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ’ আইন ২০২৬
রাজধানীতে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’। আজ বুধবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়।বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।আইন অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে, তবে এর প্রযোজ্যতা ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে। অর্থাৎ, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের কার্যক্রম এই আইনের আওতায় সুরক্ষিত থাকবে।আইনে “গণঅভ্যুত্থানকারী” বলতে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বোঝানো হয়েছে। একইসঙ্গে “রাজনৈতিক প্রতিরোধ” ও “অপরাধমূলক অপব্যবহার”-এর আলাদা সংজ্ঞা নির্ধারণ করে স্পষ্ট করা হয়েছে কোন কার্যক্রম সুরক্ষার আওতায় পড়বে আর কোনটি দায়ের আওতায় আসবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই আইনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে দায়ের করা সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে কোনো মামলা দায়েরও আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে।আরো পড়ুন , বিসিবিতে আহ্বায়ক কমিটি তামিমের নেতৃত্বে সরকারি তদন্তের পর গঠন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআইনের উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক আন্দোলন। সে সময় অংশগ্রহণকারীরা আত্মরক্ষা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা সংবিধানের আলোকে সুরক্ষার দাবি রাখে।এই আইন পাসের মাধ্যমে সরকার একদিকে গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে দায় নির্ধারণের কাঠামোও নির্ধারণ করেছে—যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।