সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫৩) নামে এক মাছ চাষিকে গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিহতের স্ত্রী সুলেখা মন্ডল বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে তালা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত ক্ষিতিশ মন্ডল তালা সদর ইউনিয়নের জিয়ালা গ্রামের মৃত মনিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে। তিনি নিজেও মাছের ঘেরের ব্যবসা করতেন। স্বজনদের দাবি, মাছ চুরির সন্দেহে তাকে রাতভর গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তালার জিয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডলকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিয়ালা শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও পড়ুন, পূবাইলে বিলে স্কুলড্রেস পরা কিশোরীর মরদেহ, পরিচয় অজ্ঞাত স্থানীয় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী, গফফার শেখসহ ১০-১৫ জন এ নির্যাতনে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। তাদের দাবি, ক্ষিতিশকে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপানো হয়। তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে। ভোর পর্যন্ত তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। পরে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল বলেন, “আমার চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মন্ডলের নিজেরই চার বিঘা জমির মাছের ঘের রয়েছে। চুরির সন্দেহে একটা মানুষকে রাতভর এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলবে? আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই।”ঊ স্বজনদের অভিযোগ, চুরির সন্দেহের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে না দিয়ে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ চুরির অপবাদে পিটিয়ে ক্ষিতিশ মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একজন মানুষকে চুরির সন্দেহে আটক করে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণ, প্রত্যেকের দায় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। এখন নিহতের পরিবার মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।