মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: বিমান উড়ার শব্দেই এখনো আতঙ্কে শিক্ষার্থী-শিক্ষক
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ক্ষত শুকালেও ট্র্যাজেডির ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফিরছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্বজনদের। আকাশে বিমান উড়ার বিকট শব্দ শুনলেই অনেক শিক্ষার্থী এখনও আতঙ্কে আঁতকে ওঠে।গত বছরের ২১ জুলাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুলের ৭ নম্বর ভবনে আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিশু-শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও অনেকে।পরবর্তীতে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উড্ডয়নজনিত ত্রুটিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান আদিত জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছিলেন। আরও পড়ুন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এইচএসসি পরীক্ষার নোটিশ সম্পূর্ণ ভুয়াবিকট শব্দে ভবন বিধ্বস্ত হওয়া এবং সহপাঠীদের প্রাণ হারানোর দৃশ্য আজও তাকে তাড়া করে ফেরে। দীর্ঘদিন তিনি মানসিক ট্রমায় ভুগেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ এলেও সহপাঠীদের স্মৃতির টানে তিনি মাইলস্টোনেই থেকে যান।অন্যদিকে সন্তান হারানো পরিবারগুলোর কাছে প্রতিটি দিনই যেন বেদনার। স্বজনরা জানান, সরকারের ঘোষিত ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা কোনোভাবেই সন্তান হারানোর শোক পূরণ করতে পারে না। এ কারণে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করেনি।স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, পাঠদান স্বাভাবিক হলেও শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। আকাশে উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টারের শব্দ শুনলেই অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে শিক্ষার্থীদের জন্য তিন মাসব্যাপী মানসিক কাউন্সেলিং পরিচালনা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সহায়তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।