বহুল আলোচিত কলেজছাত্র জাকারিয়া খান হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে শহরের প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেট চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জেলাব্যাপী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।জাকারিয়া হত্যা মামলার বিচার বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলালের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন।এতে বক্তব্য দেন বিচার বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাঁড়, আবুল কাসেম, অ্যাডভোকেট আকবার হোসেন, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, মশিউর রহমান, কামরুজ্জামান রাসেল, ছাত্রনেতা শেখ আবু রায়হান, মো. নূরুন্নবী, আল ইমরান ইমু এবং শ্রমিক নেতা আজিজ বাবু, নবাবজান ও অজিয়ার রহমানসহ অন্যরা।বক্তারা বলেন, কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডের দেড় সপ্তাহ হতে চললেও মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।আরও পড়ুন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাকে অতিথি ডটকমের সংবর্ধনাহত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সব আসামিকে আইনের আওতায় আনতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।তাঁরা আরও বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় জেলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাতিজা বাপ্পি হাসানের সঙ্গে নাহিদসহ কয়েকজন কিশোরের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় বাপ্পি হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে কলেজছাত্র জাকারিয়া খান নাহিদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহরিয়ার খান বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়।পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলার বিচারিক অগ্রগতি নিয়ে নিহতের পরিবার এবং বিচার বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।