হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বিপর্যয়ের শঙ্কা
সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত মধ্যনগর উপজেলা সহ বিভিন্ন হাওর অঞ্চলের সবকটি হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখন বিপর্যয়ের শঙ্কা। ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে ভৌগোলিক অবক্ষয়। সচেতন মহলের ধারনা করছেন, হাওর অঞ্চলের কৃষকের উন্নয়নে,সরকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরী।প্রতিবছর অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে যেমনটা সরকারের টাকা অপচয় হচ্ছে, তেমনি প্রাকৃতিক ভৌগোলিক অবক্ষয় সহ নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।আরও পড়ুন, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় মারা গেলেন মুজিব!সু-পরিকল্পনার অভাবে দেখা গেছে নানাভাবে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে দেখা গেছে, বাড়ছে দিনদিন দুর্যোগ। এতে করে প্রাকৃতিক হুমকির মুখে পড়ছে হাওর অঞ্চলের মানুষ। বাঁধ মেরামতে দিনদিনে দেখা দিয়েছে মাটির সংকট, অপরদিকে বাঁধের উপরে দুর্বা ঘাস লাগানোর কোনো সুফলের দেখা মিলেনি। প্রতিবছরেই সরকারের কতৃপক্ষ অপরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত, হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ পিআইসি'র মাধ্যমে ভাঙা আধা ভাঙা বাঁধগুলি মেরামত করা হয়ে থাকে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়।আরও পড়ুন, দেখা হলো না, ইউরোপের দেশ, দালালের খপ্পরে পরে সাগরে ছয়জনের মৃত্যুমধ্যনগর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের মেরামত ও সংস্কার কাজে এবছর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮ কোটি ৮০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তাছাড়া সুনামগঞ্জ জেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ মেরামত করা হলেও, বর্ষা মৌসুমে ঢেউ আর স্রোতে নতুন সংস্কারের বাঁধ ভেঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয় দেড়শ কোটি টাকা। এতে আগামী দুএক বছরের মধ্যে দেখাদিবে মাটির সংকট,মিলবেনা বাঁধের মাটি। অন্যদিকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও, স্থায়ীভাবে এর কোনো সুফল দেখা যায়নি। সরকার হাওর অঞ্চলের হাওর উন্নয়ন ভাবনা সুপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ীবাঁধ নির্মাণে ভূমিকা নিলে,একদিকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয়ের মহোৎসব ভাঙলেন,অন্যদিকে কৃষকের ফসল ধান এবং মাছের ভান্ডার মজবুত হবে।