ইরানের কেরমানে নিরাপত্তা চেকপোস্টে বন্দুকযুদ্ধে ৪ জন নিহত
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের শহীদ রেজায়ী বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪ জন নিহত ও ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হরমুজগান প্রদেশের ওই বন্দরে বিস্ফোরণটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, শহীদ রেজায়ী বন্দর মূলত কন্টেইনার পরিবহণ পরিচালনা করে। সেই সঙ্গে এখানে তেলের ট্যাঙ্ক ও অন্যান্য পেট্রোকেমিক্যাল সুবিধাও রয়েছে। ইরানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক এই বন্দরটি মূলত তেহরান থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আর বিস্ফোরণটি ঘটেছে এই বন্দরের সিনা কনটেইনার ইয়ার্ডে। যেটি ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের অধীন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে দাহ্য পদার্থের অবহেলাজনিত সংরক্ষণই এই বিস্ফোরণের কারণ।দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান বাবাক মাহমুদি বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে’। অন্যদিকে জরুরি পরিষেবার একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ইরনা জানিয়েছে, বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শোক এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন। এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানান, তিনি বিস্ফোরণের পরিস্থিতি এবং কারণগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য একটি নির্দেশ জারি করেছেন।এছাড়া ঘটনার সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, হরমুজগান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান মেহরদাদ হাসানজাদেহ জানান, বিস্ফোরণের ফলে বন্দরের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।এদিকে ইরানের জাতীয় পেট্রোলিয়াম রিফাইনিং ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণের কোনো প্রভাব তাদের রিফাইনারি, জ্বালানি ট্যাংক বা পাইপলাইনের ওপর পড়েনি। অর্থাৎ জ্বালানিখাতে বড় কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই।আরও পড়ুন, চীনে মহান বিজয় দিবস পালন করল বিএনপিএর আগে, ২০২০ সালের মে মাসে একই বন্দরে একটি বড় ধরণের সাইবার হামলার জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। যার ফলে বন্দরটির কার্যক্রম কয়েকদিনের জন্য অচল হয়ে পড়ে। ওই ঘটনার ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় একই বন্দরে আবার বিস্ফোরণ ঘটল। আর এটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন ওমানে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর ফলে এই বিস্ফোরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।