সিএমপির ৩৪তম কমিশনার হিসেবে শওকত আলীর দায়িত্ব গ্রহণ ও অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্বের সূচনা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এর ৩৪তম কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাসান মোঃ শওকত আলী। দায়িত্ব গ্রহণের দিনই তিনি অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।বুধবার সিএমপি সদর দপ্তরে এক সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে সদ্য বিদায়ী কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার বুঝে নেন নবনিযুক্ত কমিশনার। দায়িত্ব গ্রহণের পর লালদিঘীস্থ সিএমপি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসান মোঃ শওকত আলী। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নগরবাসীর আস্থা অর্জনই পুলিশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং সে লক্ষ্যে প্রত্যেক সদস্যকে পেশাদারিত্বসহ সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।তিনি বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা যাবে না। এসব অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।আরও পড়ুন, বিল শুকিয়ে মাছ ধরতে নালা খনন ১ শ, একর জমি চাষাবাদে বিঘ্নসভায় সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও প্রশাসন-অর্থের অতিরিক্ত দায়িত্বে ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।পেশাগত জীবনে অভিজ্ঞ হাসান মোঃ শওকত আলী ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন-এর অধীনে লাইবেরিয়া, হাইতি ও মালিতে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি, যা তার পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়িয়েছে। সিএমপিতে যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এ ডিআইজি (লজিস্টিক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।আরও পড়ুন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ রোপনের বিকল্প নেই - খায়রুল কবির খোকনচট্টগ্রাম দেশের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী হওয়ায় এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। বন্দরনির্ভর অর্থনীতি, শিল্পাঞ্চল এবং ঘনবসতিপূর্ণ নগর কাঠামোর কারণে অপরাধের ধরন ও পরিধিও বহুমাত্রিক। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কমিশনারের কঠোর অবস্থান ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হয় তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসহ মাঠপর্যায়ের দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মিশনে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাসান মোঃ শওকত আলী চট্টগ্রাম মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন। নগরবাসীর প্রত্যাশা নতুন নেতৃত্বে অপরাধ দমনসহ জননিরাপত্তা ও সেবামূলক পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।