শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। কারখানা চালু থাকলেও সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকেরা পূজার ছুটি পাবেন। তবে এ ছুটি তাঁদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো।তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে আলাদা করে সাধারণ ছুটি থাকবে না।বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বছরের শুরুতে ট্রেড ইউনিয়ন অথবা অংশগ্রহণ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি কারখানায় ১৩ দিনের ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এতে দুই ঈদে ছয় দিনসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসবের ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাধারণত এ তালিকায় দুর্গাপূজার ছুটি রাখা হয় না।আরও পড়ুন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট আইএমএফফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকেরা পূজার ছুটি নিলে তা তাঁদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করা হয়।গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। অন্যদিকে, ১২ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বেসরকারি শিল্পকারখানায় ছুটির বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।এদিকে, দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে সদস্য কারখানাগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ। শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত উৎসব ছুটির নিয়ম অনুসরণ করে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।তবে শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার মনে করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের পূজার ছুটি নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে উৎসবের ছুটি বলা যায় না। তাঁর মতে, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শ্রমিকদের জন্য পৃথক ছুটির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।