দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

পেট্রোবাংলার পরিচালক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) এস.এম. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ সংস্থা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন’-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ​অভিযোগের মূল বিষয়বস্তুসমূহ ​শোক ব্যানার অপসারণ বিতর্ক: গত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে পেট্রোবাংলা ভবনের প্রধান ফটকে টানানো একটি শোক ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক (প্রশাসন) নিজে উপস্থিত থেকে ব্যানারটি সরানোর নির্দেশ দেন, যা সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ​অনিয়ম ও দুর্নীতি: বিসিএস ২১ ব্যাচের কর্মকর্তা এস.এম. মাহবুব আলম বিগত সরকারের আমলে বেলজিয়ামে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের আগে তিনি পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) পদে যোগ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে পেট্রোবাংলা ও অধীনস্থ ১০টি কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, প্রেষণ, পদোন্নতি এবং প্রশিক্ষণের ফাইল আটকে রেখে বিশেষ চক্রের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ: অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মতামত উপেক্ষা করে তিনি এককভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মচারী ফেডারেশনের ১০ দফা দাবি পরিস্থিতي নিয়ন্ত্রণে কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রধানত নিম্নলিখিত দাবিগুলো পেশ করা হয়েছে: ​ব্যানার অপসারণের ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।আরও পড়ুন,রাজাপুরের পুটিয়াখালী মিরের হাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ যুবক গ্রেফতার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড​তদন্ত চলাকালীন প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিচালক (প্রশাসন)-কে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা। ​বিগত কয়েক বছরের পদোন্নতি, বদলি এবং কেনাকাটার নথিপত্র অডিট বা নিরীক্ষা করা। ​সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তাঁর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করা। ​সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া ​অভিযুক্তের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক (প্রশাসন) এস.এম. মাহবুব আলম মুঠোফোনে জানান, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিসংবলিত শোক ব্যানারটি দীর্ঘ ৫-৬ মাস ধরে ঝুলছিল এবং নোংরা হয়ে পড়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন ব্যানার স্থাপনের উদ্দেশ্যেই সেটি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।" নিয়োগ, বদলি বা কেনাকাটায় তাঁর একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই দাবি করে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং যেকোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ​চেয়ারম্যানের অবস্থান: এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ​প্রশাসনিক নির্দেশনা ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ​আন্দোলনরত কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। ​এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক দেওয়ান মওদুদ আহমেদ স্বাক্ষরিত চলতি বছরের (১৭ অক্টোবর ২০২৬) একটি স্মারকে (স্মারক নং- ৮০) বিষয়গুলো পরীক্ষা করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ