বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রায়হান উদ্দিন মোরাদ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার মোঃ মাসুমের ছেলে মোঃ লাল মিয়া (২৫), একই এলাকার মোঃ লালনের ছেলে মোঃ মাসুম (২৬), শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ সি-ব্লক এলাকার মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ লিটন (২২), একই উপজেলার বড়পাথার এলাকার মোঃ মিলন (৩০) এবং বি-ব্লক এলাকার মোহাম্মদ আলী (২৮)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বাকি দুই আসামিকে নিয়ে চক্রের অন্যন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান থাকায় সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই গভীর রাতে রাজশাহী থেকে রংপুরে মোটরসাইকেলযোগে রওয়ানা হন বরিশাল সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের নিরাপত্তা প্রহরী খোরশেদ আলম। ভোর পৌনে চারটার দিকে বগুড়া সদর থানার এরুলিয়া বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি রেখে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নামেন। এ সময় পেছন থেকে আসা অন্য একটি মোটরসাইকেলের অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তার বাজাজ ডিসকাভার ১০০ সিসি মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। এ ঘটনায় খোরশেদ আলম ২৮ জুলাই বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল খোরশেদ আলমের মোটরসাইকেল উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযানে নামে। আরও পড়ুন, ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই কাঠ ও বাঁশ জব্দ, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরবুধবার ২৯ জুলাই দুপুরে গাবতলী থানার বাগবাড়ী বাজার থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোর চক্রের সদস্য লাল মিয়া ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাজাহানপুর থানা এলাকা থেকে চোরাই মোটরসাইকেলসহ মিলন ও লিটনকে এবং পরবর্তীতে বি-ব্লক এলাকা থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের নিকট থেকে বৈধ কাগজপত্রহীন একাধিক চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এদিকে, গত ২৬ জুলাই ভোরে গাইবান্ধা থেকে বগুড়া আসার পথে গোকুল ঈদগাহ মাঠের কাছে নেভি সিগারেট কোম্পানিতে কর্মরত নাহান বাশার খান নাদিম নামের এক ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হন। তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে তার বাজাজ ডিসকাভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল, মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তিন দুষ্কৃতকারী। গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজতে থাকা উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলো ভুক্তভোগীকে দেখানো হলে তিনি তার ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করেন। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রায়হান উদ্দিন মোরাদ জানান, একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে মোট ৬টি চোরাই ও ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও কেনাবেচা চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং আসামীদের নামে পূর্বে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামীদের আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।