১১ দিনে ‘দুর্নীতির প্রমাণ’ থেকে ‘নির্দোষ’: সচিবালয়ে প্রশ্নের ঝড়
দেশের আমলাতন্ত্রে নজিরবিহীন এক ঘটনায় ১১ দিনের ব্যবধানে একজন প্রকৌশলী ‘দুর্নীতির প্রমাণিত’ থেকে ‘নির্দোষ’ হয়ে পুনর্বহাল হয়েছেন—যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মো. তবিবুর রহমান তালুকদার, যিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর নির্বাহী প্রকৌশলী।নথি অনুযায়ী, চলতি মাসের ৯ এপ্রিল মো. শহীদুল হাসান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, এক প্রজ্ঞাপনে তবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু মাত্র দুই দিন পর, ১২ এপ্রিল, ওই প্রকৌশলী সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সেই আবেদনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।আরও পড়ুন, বাসভাড়া কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়লোএরপর মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে, ২২ এপ্রিল, একই সচিব নতুন প্রজ্ঞাপনে জানান—সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আগের পদে পুনর্বহাল করা হয়। এই দ্রুত সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনেকের মতে, এত অল্প সময়ে বিভাগীয় মামলা দায়ের, তদন্ত এবং নিষ্পত্তি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি অস্বাভাবিক।আরও পড়ুন, চাহিদা ১৭ হাজার, উৎপাদন ১৪ হাজার মেগাওয়াটজনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মচারীর সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা আচরণবিধির পরিপন্থী। এছাড়া বিভাগীয় মামলার তারিখ উল্লেখ না থাকা এবং তদন্তের কোনো স্পষ্ট তথ্য না পাওয়া—পুরো প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এদিকে, পুনর্বহালের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশও দেখা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার পুনর্বহাল নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নীতিমালার প্রয়োগ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।