মেলা আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় কৃষক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন
মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির করা অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. শহিদুল হক। একই সঙ্গে মেলা সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (২৯ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. শহিদুল হক এসব কথা বলেন।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ৪০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের জন্য গত ৪ মার্চ রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি স্মারক নং-৩৪৪, তারিখ ১২ এপ্রিল ২০২৬-এর মাধ্যমে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে মেলা আয়োজনের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন এবং তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় বলে দাবি করেন শহিদুল হক।তিনি আরও জানান, গত ২ মে মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন ও রেজুলেশন করা হয়। ৬ মে জমি লিজ বাবদ আরও ৯০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ৪৫ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং ১১ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। সরকারি স্মারক নং-৪৮৮ ও ৪৮৯-এর মাধ্যমে মেলা আয়োজনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।শহিদুল হকের দাবি, গত ১৮ আগস্ট বিজয় দিবস উপলক্ষে ৬০ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা থেকে একটি প্রতিনিধি দল রংপুরে আসে। প্রতিনিধি দলের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ মেলা সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে মাহবুব হোসেন প্রতিনিধি দলকে রংপুরে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।আরও পড়ুন, ভূঞাপুরে চাঁদাবাজদের আতঙ্কে জুট মিল ম্যানেজারের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়তিনি বলেন, পরদিন ২৪ আগস্ট মেলা কমিটির ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মাহবুব হোসেন নিজ জ্ঞানে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা, রেজুলেশন, টাকা লেনদেনের কাগজপত্র, চেক ও স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল হক আরও দাবি করেন, মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের কৌশলে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তাদের কাছে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানান।গত ২৭ আগস্ট মাহবুব হোসেনের সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে শহিদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেবেন বলেও জানান।তিনি আরও বলেন, মেলা সংক্রান্ত কোনো টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। বরং চুক্তিনামা, রেজুলেশন, টাকা লেনদেনের কাগজপত্র, চেক ও স্ট্যাম্প যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বক্তব্য নিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলন থেকে মেলা সংক্রান্ত পুরো অর্থ লেনদেন এবং মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. শহিদুল হক।তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, কাগজপত্র ও প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।