অসত্য অভিযোগে চ্যালেঞ্জ, কঠোর হুঁশিয়ারি আপেল মাহমুদের
ডিআইজি আপেল মাহমুদ কক্সবাজারে পর্যটন নিরাপত্তা জোরদার করেছেন।সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পুলিশ দাবি।লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে।অবৈধ দোকান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প সম্প্রতি নতুন এক বিতর্কের মুখোমুখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা অবকাঠামো ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছেন। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পর্যটন নিরাপত্তা জোরদার, বিচ এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে জানিয়েছেন যে, পর্যটকদের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইন অমান্যকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় এবং বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে তার এই কঠোর অবস্থানের প্রমাণ দেখা গেছে।ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল, তথ্যপ্রমাণ বা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। রিজিয়ন প্রধান আরও জানিয়েছেন, চলমান উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করছে। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করুন, আমরা তদন্তে সহযোগিতা করব।আরো পড়ুন: পুরোনো ঘটনা, নতুন বিতর্ক: আপেল মাহমুদকে ঘিরে অপপ্রচার !বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি কক্সবাজারের বিচের নির্দিষ্ট পয়েন্টে অনুমতিহীন দোকান, স্থাপনা এবং অস্থায়ী কাঠামোর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানগুলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা জানিয়েছেন যে, অনেক দিন ধরেই বিচের বিভিন্ন অংশে অবৈধ দোকান বসানো এবং চাঁদা আদায়ের ঘটনা চলছিল।একজন হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, “অবৈধ দোকান ও চাঁদাবাজির কারণে পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছিল। এতে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ যেভাবে এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু অবকাশ নিশ্চিত করা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ তাদের অগ্রাধিকার। জেলা প্রশাসনও ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। অবৈধ দোকান, হোটেল এবং চায়ের দখলমুক্ত এলাকায় স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে আইন মেনে উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করা হবে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে লাইলাসহ কয়েকজন টিকটকারকে গ্রেফতার করার পরই একটি প্রভাবশালী চক্র ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ওই টিকটকার তরুণীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় পর্যটক এবং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিচের পরিবেশের অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সৈকত সংলগ্ন এলাকা এখন আগের চেয়ে অনেক পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল। পর্যটকরা নিরাপদে বিচে অবকাশ উপভোগ করতে পারছেন, এবং অবৈধ দোকান ও চাঁদাবাজি কমে এসেছে। এক পর্যটক বলেন, “আগে বিচে বিশৃঙ্খলা ও অবৈধ ব্যবসার কারণে আমরা বেশিরভাগ সময় সচেতন থাকতাম। কিন্তু এখন অনেকটাই শান্তি। নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।আরো পড়ুন: পর্যটন নিরাপত্তায় শীর্ষ পর্যায়ের নজরবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পর্যটন শিল্পে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব অপরিসীম। পর্যটকরা নিরাপদ পরিবেশে ভ্রমণ করতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও লাভবান হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। অতএব, ট্যুরিস্ট পুলিশের এই ধরনের পদক্ষেপ পর্যটন শিল্পের জন্য ইতিবাচক।কক্সবাজার জেলা প্রশাসনও ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রমে সমর্থন জানিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ দোকান, হোটেল এবং চায়ের দখল নিয়ে মাঠ পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে আইন মেনে দখলমুক্ত এলাকাগুলো উদ্ধার করা হবে। এক ব্যবসায়ী বলেন, এই অভিযান আমাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা করছিল, তারা এখন আইনের আওতায় এসেছে। এতে পর্যটকরা নিরাপদে বিচে সময় কাটাতে পারবেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আইন মেনে ব্যবসা করতে পারবেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন শিল্পকে সুরক্ষিত রাখা তাদের মূল লক্ষ্য। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।ভিডিও বার্তা ফেসবুক: এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো চক্রটি পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে তথ্য প্রচার করছে বলে পুলিশ মনে করছে। তারা আশা করছে যে, সংশ্লিষ্ট মিডিয়া সংস্থাগুলো প্রমাণ নিয়ে প্রকাশ করলে ট্যুরিস্ট পুলিশ সহকারিতা করবে এবং বাস্তব তথ্য সামনে আসবে। পরিশেষে, পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে কক্সবাজারে পর্যটন নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প আরও দৃঢ়ভাবে গড়ে উঠবে এবং পর্যটকেরা নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।