আশুলিয়ার ত্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, পরকীয়ার বিরোধে দম্পতি-নবজাতক হত্যার তথ্য
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় আলোচিত ত্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামতও।ক্লুলেস হিসেবে শুরু হওয়া আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর ত্রিপল মার্ডারের তদন্তে মিলেছে নতুন তথ্য।পিবিআইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত নাজমা খাতুনের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথিত পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।গত ১ সেপ্টেম্বর কারখানা ছুটির পর পোশাককর্মী নাজমা খাতুন ও তার স্বামী আলমগীর কবির বাসায় ফেরেন।তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এরপর আলমগীর কবির ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে আনেন। তাকে সতর্ক বা জিজ্ঞাসাবাদ করার উদ্দেশ্যেই ডেকে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।পরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আরও পড়ুন, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর হটস্পট বাড়ছে, সেপ্টেম্বরে ৭ দিনেই আক্রান্ত ৫ শতাধিকএ সময় আলমগীর কবির ও তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা খাতুন নিহত হন।ঘটনার সময় নাজমার প্রসব হয়ে একটি নবজাতকের জন্ম হলেও শিশুটিও মারা যায়। পরে তিনটি মরদেহ ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা।গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেন।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে দম্পতির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। একই কক্ষ থেকে একটি মৃত নবজাতকের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে।তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পিবিআই।ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের এসআই আনিসুর রহমান বাপ্পী জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।