দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সাইনবোর্ডে নাম পদবী ব্যবহার হন হাতুড়ে ডাক্তার

যশোর অফিস: সাইনবোর্ডে ব্যবহার করছেন একজন বিডিএস (ডেন্টাল সার্জন) চিকিৎসকের নাম ও পদবি। আর চেম্বারের ভিতরে রোগী দেখছেন অন্য এক কথিত ডাক্তার। দীর্ঘদিন ধরে রোগীর সাথে এমন প্রতারণায় মেতেছেন যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া বাজারের হাজী মার্কেটে অবস্থিত ‘হক ডেন্টাল কেয়ার’। তবে চেম্বারের সামনে ঝোলানো সাইনবোর্ডে দাবি করা হয়েছে, এখানে নিয়মিত রোগী দেখেন ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার সুষ্মিতা সেন কেয়া (বিডিএস)। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চেম্বার না করলেও  ব্যবহার করে থাকে উক্ত ঠিকানা। সম্প্রত্তি, কেবল মাঝে মধ্যে চেম্বারে ভিজিট করতে আসলেও, নিয়মিত রোগী দেখা বা চিকিৎসা কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত নন উক্ত হাতুড়ে ডাক্তার। জানা গেছে, চেম্বারের ভেতরে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগী দেখছেন আনোয়ার হোসেন ভূয়া ডাক্তার। দীর্ঘদিন ধরে তিনিই চিকিৎসা সেবার নিয়োজিত থাকলেও, ওষুধ প্রদান এবং রুট ক্যানেলসহ নানা কর্মকান্ড করে আসছেন। অথচ নেই কোন ডিগ্রি। গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের বোকা বানিয়ে সাইনবোর্ডে বিডিএস ডাক্তারের নাম দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। অনেকেই বুঝতেই পারছেন না যে তারা একজন অনুমোদিত ডেন্টাল সার্জনের পরিবর্তে একজন হাতুড়ে ব্যক্তির কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের তাসলিমা খাতুন, নরেন্দ্রপুরের আকবর আলীসহ অনেকে। আরও পড়ুন, জনগণের সেবায় ছুুটে চলেছেন পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদারসূত্রে জানা গেছে, চেম্বারের সামনে একজন নিবন্ধিত বিডিএস ডেন্টাল সার্জনের নাম ও পদবি সম্বলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হন। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ দাঁতের চিকিৎসা করতে পারেন না। অনুমোদনহীন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করার নামে সরকারি নিতিমালা লঙ্ঘন। এছাড়া, অনুমোদিত চিকিৎসকের নাম ও পদবি ব্যবহার করে রোগীদের বিভ্রান্ত করার বিষয়টি আইন, ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতারণা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া মিথ্যা পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ধারায় (প্রতারণা) শাস্তির বিধান রয়েছে। এবিষয়ে ডা.আনোয়ার হোসেনের কাছে দু’দফা ফোন করে ডাক্তার সুষ্মিতা সেন কেয়াকে দেখাতে চাইলে জানানো হয় তিনি চেম্বারে নেই। এভাবেই তিনি ডাক্তারের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রোগী দেখার নামে প্রতারনার এক নতুন ফাঁদ তৈরি করছেন। এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সাইনবোর্ডে নাম পদবী ব্যবহার হন হাতুড়ে ডাক্তার