ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে রেলপথ ও সেতুকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তিনি টেলিভিশনে এক ভাষণে এ দাবি করেন। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, এসব অবকাঠামো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ব্যবহার করছিল। তবে তার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি ভাষণে আরও বলেন, এর আগের দিন ইসরায়েল ‘পরিবহন বিমান ও ডজনখানেক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে’, যেগুলো আইআরজিসি ব্যবহার করছিল বলে তার দাবি। এ ক্ষেত্রেও তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন, ইরানকে ‘আজ রাতেই ধ্বংস’ হুমকি ট্রাম্পেরইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা ইরানের বিভিন্ন পরিবহন রুটে বড় পরিসরের হামলা চালিয়েছে। ইরানের তেল উৎপাদনকারী খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন রেললাইন ও সড়ক অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কের কাছে একটি হামলায় দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া কাশানের ইয়াহিয়াবাদ রেলসেতু এবং কোম প্রদেশের কয়েকটি সেতুও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের সাধারণ জনগণকে ট্রেন ব্যবহার না করার এবং রেললাইনের কাছাকাছি না যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, এসব এলাকায় অবস্থান জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা আর সংযম দেখাবে না। পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে তারা।আরও পড়ুন, হরমুজ বন্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, সামনে খাদ্যদ্রব্যের দামে বড় ধাক্কার শঙ্কাএই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’ তিনি তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, শর্ত মানা না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। তিনি সতর্ক করেন, ‘ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’ ইরান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।