রংপুরের গংগাচড়ায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উঠান বৈঠকে হামলা, মারধর, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গুরুতর জখম ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান নষ্টের উদ্দেশ্যে তলপেটে লোহার রড দিয়ে আঘাত করারও অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় উত্তর খলেয়া সরদারপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হাকিম (৩৯) গংগাচড়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করেছেন।এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী আব্দুল হাকিমের পৈতৃক জমি কয়েকজন আসামি জবরদখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। জমি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে বিচার প্রার্থনা করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর বাড়ির উঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, বৈঠকে তিনি নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় আসামিরা উত্তেজিত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে উপস্থিত ব্যক্তিদের চলে যেতে বলেন। তিনি প্রতিবাদ করলে এক আসামির নির্দেশে অন্যরা লাঠি, দা, ছোড়া, লোহার রড ও হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।বাদীর অভিযোগ, এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে তাঁর দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম (২৩) ও ছোট ভাই শাহীন বাদশা এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এক নম্বর আসামি লোহার রড দিয়ে ফাতেমা বেগমের তলপেটে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মতৎপরতার স্বীকৃতি, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদানপরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় ফাতেমা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলার সময় বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আসামিরা বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ঘটনার পর বাদী ও তাঁর স্ত্রী স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে অন্তঃসত্ত্বা ফাতেমা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁর গর্ভের সন্তান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।বাদী জানান, স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাতে গিয়ে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করায় থানায় এজাহার দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।এ ঘটনায় গংগাচড়া থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গংগাচড়া মডেল থানার ওসি জানায় দুই পক্ষেই অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।