দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত, উন্নয়ন দাবিতে সরব বক্তারা
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে দোহাজারী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) দোহাজারী পৌরসভাস্থ সাঙ্গু কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দোহাজারী নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. আলী আকবর এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিম উদ্দিন জনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাবিদ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।নাগরিক কমিটির বক্তারা বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবার প্রসারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেকারত্ব দূর করতে দোহাজারীতে কাজী ফার্মের প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোন দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে দোহাজারী, ধোপাছড়ি ও সাতকানিয়ার ছয়টি অবহেলিত ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত সাঙ্গু থানা দ্রুত চালুর দাবি জানান তারা। তারা আরও বলেন, কয়েক লক্ষ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার জন্য দোহাজারী চৌকিদার ফাঁড়ি বাস্তবায়ন, দোহাজারী হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কলেজ স্থাপন, দোহাজারী রেল স্টেশন থেকে ঢাকা রুট চালু এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এখন সময়ের দাবি।আরও পড়ুন, পলাশবাড়ী সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাও. গোলাম রব্বানীর ইন্তেকালঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়সহ বর্তমান বাস্তবতায় দেশ নানা উন্নয়ন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি স্পষ্ট। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে চন্দনাইশ উপজেলা সবচেয়ে অবহেলিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য উপজেলায় যেখানে পাকা সড়কের হার প্রায় ৭৪ শতাংশ, সেখানে চন্দনাইশে তা মাত্র ৩৪ শতাংশ। এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের উন্নয়নে ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দোহাজারীতে শঙ্খ নদীর ওপর চৌকিদার ফাঁড়ি সেতু নির্মাণের জন্য ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং একনেকে অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।আরও পড়ুন, মাদারীপুরের কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদীগর্ভে ৫০০ মিটার সড়ক, ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াততিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ এবং কেরানীহাটুদোহাজারী এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল অভিষেক, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, প্রীতিভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র। শেষ পর্যায়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র্যাফেল ড্রর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।