পুকুরপাড়ে পচছে আলু গঙ্গাচড়ায় দিশেহারা কৃষক, লোকসানের বোঝা বাড়ছে দিনদিন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আলুর দামে ধস নামায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় অনেকেই তাদের কষ্টার্জিত ফসল বিক্রি না করে পুকুরপাড়ে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে।মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক তহিজার রহমানের বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে শত শত বস্তা আলু। অনেক আলু ইতোমধ্যে পচে গেছে, কিছু আবার পানিতে গড়িয়ে পড়েছে—যা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে।কৃষক তহিজার রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৪০০ বস্তা আলু উৎপাদন করেন। শুরুতে বাজারদর কম থাকায় তিনি বিক্রি না করে ঘরে সংরক্ষণ করেন।আরও পড়ুন , টাঙ্গাইলে ট্রাক–পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে আলুগুলো পচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সেগুলো পুকুরপাড়ে ফেলে দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এভাবে কষ্ট করে ফলানো ফসল ফেলে দিতে হবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি।”একই এলাকার কৃষক শেফালী বেগম বলেন, বর্গা ও লিজ নিয়ে চাষ করায় তার খরচ বেড়েছে অনেক। এখন বাজারে আলুর দাম না থাকায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়ে দাম কমে গেছে।আরও পড়ুন , হিজলায় ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ নারী আটক, এলাকায় সক্রিয় মাদকচক্র নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভবর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি ১৮ থেকে ১৯ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ও সংরক্ষণসহ মোট খরচ প্রায় ২০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৭ থেকে ৮ টাকায়, ফলে তারাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।এদিকে উপজেলার একমাত্র হিমাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা ইতোমধ্যে প্রায় পূর্ণ। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাড়িতেই আলু সংরক্ষণ করছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এসব আলু দ্রুত পচে যাচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, “অতিরিক্ত উৎপাদন, সংরক্ষণ সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”কৃষকদের দাবি, দ্রুত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, হিমাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করা না হলে ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন তারা।