সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ৭ মাসেও পদায়ন হয়নি ইউএনও,সময়মত মিলছেনা দাপ্তরিক সেবা। স্থানীয় নাগরিকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। জোড়াতালি দিয়ে চলছে উপজেলার কার্যক্রম,সেবা প্রত্যাশীরা হচ্ছে হয়রানির শিকার। এরমধ্যে ধর্মপাশা উপজেলা কর্মকর্তা ইউএনও জনি রায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সপ্তাহে একদিন অফিস করেন। একাই চার পদের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এতে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার ভুক্তভোগী নাগরিকদের।ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়, নিজের মূল পদের পাশাপাশি তিনি মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে সপ্তাহে একদিন অফিস করায়,জটলাগা বিভিন্ন কাজের সমাধান মিলছেনা নাগরিকদের। তাছাড়া দুই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন তিনি। দুই উপজেলার সব প্রশাসনিক ও বিচারিক কাজ একজন কর্মকর্তার কাঁধে পড়ায়,পুরো এলাকার দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসতে দেখা যায়। এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার সেবাগ্রহীতারা।গত ১৫ মার্চ মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের বদলির পর থেকে ধর্মপাশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ চার মাস ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বদলি হওয়ার পর, ২৩ আগস্ট থেকে এপর্যন্ত ধর্মপাশা উপজেলা ইউএনও জনি রায় অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে ১ দিন মধ্যনগরের ইউএনও হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।তাছাড়া গত ২ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কতৃক জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত জামালগঞ্জ উপজেলার ইউএনও শিল্পী রাণী মোদককে মধ্যনগরের নতুন ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়।আরও পড়ুন, কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: নিহত ৬, আহত ৯ জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে খবর লিখা পর্যন্ত তিনি মধ্যনগর উপজেলা পরিষদে যোগদান করেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও পদ শূন্য থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সেবা প্রত্যাশী নাগরিক।বিবরনে প্রকাশ যে, উপজেলাটি ২০২১ সালে নতুন উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়,৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মধ্যনগরে আলাদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় গড়ে ওঠেনি। ফলে ভূমি- সংক্রান্ত সব সেবা নিতে হয় ধর্মপাশা উপজেলা থেকে।একই ইউএনও দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, দুই এসিল্যান্ড এর দায়িত্ব পালন করায়, দুই উপজেলার প্রশাসনিক কাজ একসঙ্গে সামলাতে খুবই কঠিন হয়ে গেছে। ফলে একদিকে প্রশাসন হিমশিম খেতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী নাগরিক হয়রানির শিকার হচ্ছে। এছাড়াও মধ্যনগরে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায়,বীড়ম্বনার শিকার হচ্ছে স্থানীয় নাগরিকরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র, উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন,ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ভূমি-সংক্রান্ত সমন্বয় সহ নানা দাপ্তরিক কাজে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অনেক সেবা প্রত্যাশী একাধিকবার উপজেলা পরিষদে ঘুরেও কাজের সমাধান মিলছেনা তাদের।স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, দুটি উপজেলার দাপ্তরিক কাজ এবং জমি সংক্রান্ত নামজারি ও খতিয়ান যথাসময়ে না পাওয়ায় এলাকায় জমি বেচাকেনা ও ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ থমকে গেছে। নিয়মিত অফিস তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই সুযোগে নদী-খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন,পুকুর ভরাট ও খাসজমি দখলের প্রবণতা আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে। এলাকার সচেতন মহল ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও ভোগান্তি নিরসনে দ্রুততম সময়ে স্থায়ী ইউএনও এবং এসিল্যান্ড পদায়নের দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, উপজেলার শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়নের জন্য ইতিমধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।