দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাদকের নতুন রুট, বিনিময়ের মাধ্যম এখন পণ্য

বাংলাদেশে মাদক পাচারের কৌশলে এসেছে নতুন মোড়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এখন আর শুধু নগদ টাকার লেনদেনে নয়, বরং পণ্যের বিনিময়েও দেশে ঢুকছে ইয়াবা ও আইসের চালান। এই পদ্ধতিকে ‘নার্কো-কারেন্সি’ বা মাদকভিত্তিক বিনিময় ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে চাল, ডাল, সিমেন্ট, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য পাঠানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব পণ্যের আংশিক মূল্য ইয়াবা ও আইস দিয়ে পরিশোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এই লেনদেন মূলত বঙ্গোপসাগরের নৌপথে পরিচালিত হয়। মাছ ধরার ট্রলারে করে বাংলাদেশ থেকে পণ্য নেওয়া হয়, আর ফেরার পথে একই ট্রলারে দেশে আনা হয় মাদকের চালান। টেকনাফ ও নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে এসব চালান প্রবেশ করছে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।আরও  পড়ুন, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস, কয়েক বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কাকক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন বেশি হলেও এখন পণ্য পাঠিয়ে সরাসরি মাদক আনার প্রবণতা বেড়েছে। কিছু রোহিঙ্গা ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র এতে জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এদিকে এক জেলের দাবি, ট্রলারের ওপরের অংশে মাছ ও জাল রেখে নিচে পণ্য বহন করা হতো, আর ফেরার সময় মাছের ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে আনা হতো। যদিও অভিযুক্ত এক মাঝি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পণ্যের বিনিময়ে মাদক লেনদেনের এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য এটি বড় ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাদকের নতুন রুট, বিনিময়ের মাধ্যম এখন পণ্য