থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে আগাছানাশক ছিটিয়ে ৫৫ শতক আমনক্ষেত নষ্ট
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর চরের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ৫৫ শতক আমনক্ষেতে আগাছানাশক ছিটিয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডোগরা গ্রামে। এ ঘটনায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি গ্রামের রজব আলীর ছেলে সেরাজুল ইসলাম (৩৯) থানায় অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সেরাজুল ইসলামের দাদার নামে রেকর্ডভুক্ত জমি তিস্তা নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পরে খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ওই জমি চর হিসেবে জেগে উঠলে সেরাজুল ইসলাম ও তাঁর চাচারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।সম্প্রতি গঙ্গাচড়া উপজেলার চর বাগডোগরা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম (৪৫) ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।আরও পড়ুন, গংগাচড়ায় বিদ্যালয় থেকে তিস্তা মাত্র ৬০ মিটার, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী সেরাজুল ইসলামের দাবি, এসব সালিশে তাঁর পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে মনোয়ারুল ইসলাম জমির মালিকানা দাবি থেকে সরে আসেননি।সেরাজুল ইসলামের অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট ভোরে মনোয়ারুল ইসলাম গোপনে বিরোধপূর্ণ ৫৫ শতক জমির আমনক্ষেতে আগাছানাশক ওষুধ স্প্রে করেন। এতে ক্ষেতের ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে মনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।স্থানীয় বাসিন্দা চর বাগডোগরা গ্রামের আব্দুস সালাম, আনিছুর রহমান ও ইউনুস আলীসহ কয়েকজন জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সেরাজুল ইসলাম ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।অন্যদিকে, মনোয়ারুল ইসলামও জমিটি নিজের বলে দাবি করে আসছেন। তাঁর পক্ষ থেকেও আমনক্ষেত নষ্ট করার ঘটনায় সেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সবুর জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।