‘তিন মাস আগেও মা-বাবার সঙ্গে দেশে এসেছিল নাহিল। গ্রামের বাড়িতে ছিল ২৮ দিন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করেছে, চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে খেলেছে। ভাঙা ভাঙা বাংলায় কথা বলত। কে জানত, সেটিই হবে শেষ দেখা!’কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার ভারী হয়ে আসছিল হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের কাটখাল গ্রামের ফরিদ মিয়ার কণ্ঠ। প্যারিসের ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে তাঁর সাড়ে তিন বছরের ভাতিজা নাহিল।২০১০ সালে ফ্রান্সে পাড়ি জমান নাহিলের বাবা রাসেল আহমদ। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা করছেন তিনি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লিজা হকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র সন্তান নাহিল।কর্মজীবী বাবা-মায়ের ব্যস্ততার কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় নানির কাছেই থাকত শিশুটি।আড়ও পড়ুন,ইসরায়েলকে ঘিরে ইরানের গোপন পরিকল্পনা৫ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো নাহিলকে নানির বাসায় রেখে কাজে যান মা লিজা। রাতে প্যারিসের উত্তর শহরতলির ওভারভিলিয়েতে একটি দোতলা ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে।নাহিলের নানাবাড়ির পাশের ওই ভবনের একটি কক্ষে গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তেই ভবনের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। শুরু হয় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান।দমকল বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় রাতভর উদ্ধারকাজ চালান। পরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার করা হয় নাহিলের নিথর দেহ।এ ঘটনায় নাহিলের নানা, নানি ও দুই খালাসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, নাহিলের নানি ও দুই খালার অবস্থা আশঙ্কাজনক।এদিকে হবিগঞ্জের কাটখাল গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের চোখে এখন শুধু ছোট্ট নাহিলের স্মৃতি।পরিবার জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ফ্রান্সেই নাহিলকে দাফন করা হবে। তবে এখনো মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।