নরসিংদীতে চাঁদা না পেয়ে ড্রেন নির্মাণে বাধা, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সহ গ্রেফতার ৩
নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নে ড্রেন নির্মাণকাজে বাধা প্রদান এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাজিব সরকারসহ তিন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ করিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।জানা যায়, ড্রেন নির্মাণকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. হারেস মিয়া (২৬) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়।গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, করিমপুর এলাকার মান্নান মিয়ার ছেলে সুমন প্রধান (৩৬), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাজিব সরকার (৩২) এবং আফজু মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৮)।মামলা সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী সদরের করিমপুর কবরস্থান থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায় ৪২০ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। আর.আর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছিলেন।আরও পড়ুন, বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে দুই ছাত্রসংগঠনের দফায় দফায় সংঘৎ1র্ষ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট বিকেলে করিমপুর বাজারের পাশে ড্রেনের কাজ চলাকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ঠিকাদারের পরামর্শে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী হারেস মিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আর আল মামুল বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই শুনতেছি চাঁদাবাজির একটা গ্রুপ কাজ করে। বিশ্বস্ত সূত্র ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে করিমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করি। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাজিব সরকার নামে একজন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। তাদের চাঁদাবাজির মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছে। তাদের ভয়ে আগে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।