ফরিদপুরে ময়লার ভাগাড়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, উদাসীন কর্তৃপক্ষ
ডাস্টবিন বলতে সাধারণত আমরা ময়লা ফেলার কাজে ব্যবহৃত নিরাপদ জায়গায় স্থাপিত একটি সুনির্দিষ্ট অবকাঠামোকেই বুঝি। কিন্তু এ যেন রীতিমতো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে শহরের প্রধান সড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থান। ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের পাশে স্থাপিত ময়লার ডাম্পিং পয়েন্ট'কে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতিমুহূর্তের সীমাহীন দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিপর্যয়ের মুখে সামাজিক পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে আবর্জনা ফেলার কারণে এলাকাটি এখন কার্যত একটি উন্মুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে করে পথচারী, স্কুলগামী কোমলমতি শিশু , অসুস্থ রোগী ও ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় পরিবেশের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে চাহিদার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন পূর্বে পৌরসভার পক্ষ থেকে এখানে স্থানীয়দের ব্যবহারের জন্য একটি ছোট্ট ডাস্টবিন স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও একপর্যায়ে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা এনে প্রতিনিয়ত এখানে জমা করে এটাকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড বা ডাম্পিং পয়েন্টে রূপান্তর করা হয়েছে। জায়গাটি নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেখানে জমে থাকা ময়লা পানি ও পচা ময়লা থেকে প্রতিনিয়ত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। বিশেষ করে আশপাশে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন তারা।আরও পড়ুন, পলাশবাড়ীতে গ্রীন ফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনাডাম্পিং পয়েন্টের ২০০ থেকে ৫০০ গজের মধ্যে রয়েছে একাধিক বাণিজ্যিক চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য এই পরিবেশ অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে শহরের সরকারি পশু প্রজনন কেন্দ্রের প্রধান ফটকের কোল ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগারটি। কিন্তু সরকারি এ দপ্তরের পক্ষ থেকে অদ্যাবধি দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানা যায়নি।স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট শিশুরা প্রতিদিন এই দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। তাদের দাবি, দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সবাই। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ডের পৌর অডিটোরিয়াম সংলগ্ন স্থানে তৈরী হয়েছে ময়লার ভাগারটি। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন উৎসবের আমেজে মুখরিত থাকে বাণিজ্যিক পৌর অডিটোরিয়াম ও তৎসংলগ্ন এলাকা। পথচারীরা কেউ নিঃশ্বাস বন্ধ রেখে দৌড়িয়ে, কেউ নাকে-মুখে খালি হাত বা কাপড় চেপে স্থানটি দ্রুত গতিতে অতিক্রম করছে। চেহারায় অত্যন্ত বিরক্তির সুস্পষ্ট প্রকাশ, কারো কারো কন্ঠে তীব্র ক্ষোভ। কর্তৃপক্ষের লাগামহীন অবহেলার কাছে কারো কারো অসহায় আত্মসমর্পণ। কারো কারো প্রশ্ন, " জনগণের টাকা ব্যায়ে প্রতিনিয়ত শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা হলেও, শহরের নাকের ডগায় ময়লার ভাগাড়! অথচ নেই কোন প্রতিকার! অর্থ ব্যয়ে শহরের সৌন্দর্য বর্ধন কি তাহলে বিশেষ উদ্দেশ্যে?আরও পড়ুন, চট্টগ্রামের চন্দ্রনগরে ভবন দখলকে কেন্দ্র করে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীস্থানীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি মুন্সী লিমন বলেন, এখানে জমে থাকা ময়লার কারণে মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েই চলেছে, যা ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই ময়লার ডাম্পিং পয়েন্টের এক পাশে যেমন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা, অপর পাশেই জনবহুল আবাসিক এলাকা। বিশেষ করে ময়লার ভাগারের আশেপাশে বসবাসকারীদের অনেকে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রকার শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, এই ডাম্পিং পয়েন্ট বা ময়লার ভাগার সংলগ্ন যে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে তা মাদক সেবীদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। কিশোর গ্যাং সদস্যদের অভয়আশ্রম। চুরি ডাকাতি ছিনতাই এর মত ঘটনার উৎপত্তিস্থল। অথচ নির্বাক প্রশাসন! একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রতিবারই প্রতিকারের আশ্বাস পেয়েছি। পরবর্তীতে আশ্বাসের বাণী মিলিয়েছে বাতাসে, প্রতিকারে নেই কোন দৃশ্যমান কার্যকর ভূমিকা। চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চায় না। ফলে প্রতিনিয়ত ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে বাধ্য হয়েই আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।আরও পড়ুন, নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদানএ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন সচেতন মহল। এসডিসি নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফরিদপুর পৌরসভার থেকে দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত পরিকল্পনাহীন অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার সাথে কাজটি পরিচালনা করছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এই ডাস্টবিনটি স্থানান্তর করতে হবে। অন্যথায় কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। জনদুর্ভোগ লাঘবে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।