টেলিভিশনের ইতিহাস বদলে দেওয়া জনপ্রিয় মার্কিন সিটকম ‘আই লাভ লুসি’র প্রথম প্রচারের ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৫১ সালের ১৫ অক্টোবর সিবিএসে যাত্রা শুরু করা এই সিরিজ শুধু দর্শকদের হাসায়নি, বদলে দিয়েছে টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণের কৌশল ও ব্যবসায়িক ধারণাও। সাত দশকের বেশি সময় পরও সিরিজটির জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বিনোদনজগতে আলোচিত হচ্ছে। সিরিজটির কেন্দ্রে ছিলেন লুসিল বল। তাঁর অভিনীত চরিত্র লুসি রিকার্ডো সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে বিনোদনজগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে চাইতেন। তাঁর স্বামী রিকি রিকার্ডোর চরিত্রে অভিনয় করেন লুসিল বলের বাস্তব জীবনের স্বামী দেশি আর্নাজ। রিকি ছিলেন একটি নাইট ক্লাবের সংগীতদলের নেতা। স্বামীর অনুষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া কিংবা নিজের প্রতিভা দেখানোর চেষ্টায় লুসি প্রায়ই জড়িয়ে পড়তেন মজার সব বিপত্তিতে।তাঁদের প্রতিবেশী ও বন্ধু এথেল এবং ফ্রেড মার্টজের চরিত্রে অভিনয় করেন ভিভিয়ান ভ্যান্স ও উইলিয়াম ফ্রলি। চার চরিত্রের সম্পর্ক, খুনসুটি ও দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা দর্শকদের কাছে সিরিজটিকে করে তোলে বিশেষ আকর্ষণীয়। ‘আই লাভ লুসি’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর অভিনয় ও নির্মাণপদ্ধতি। স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকদের সামনে অভিনয় করে একসঙ্গে তিনটি ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করা হতো। আরও পড়ুন,উচ্ছ্বসিত জয়া আহসানএতে অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা ধরে রাখার পাশাপাশি উন্নত মানের ফিল্মে পর্বগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে দর্শকের সামনে নির্মিত সিটকমের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে ওঠে। লুসিল বলের অভিনয়ও সিরিজটির সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। বিশেষ করে চকলেট কারখানার চলন্ত বেল্টে দ্রুতগতিতে আসা চকলেট মোড়কে ভরতে না পেরে সেগুলো মুখে ও পোশাকের ভেতর লুকানোর দৃশ্যটি টেলিভিশন কমেডির স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। সংলাপের চেয়ে মুখভঙ্গি, শারীরিক অভিনয় ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই হাসি তৈরি করেছিলেন তিনি। সিরিজটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল লুসির মাতৃত্বকে গল্পের অংশ করে তোলা। ১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে প্রচারিত ‘লুসি গোজ টু দ্য হসপিটাল’ পর্বে লুসির সন্তান জন্মের ঘটনা দেখানো হয়। একই দিন বাস্তব জীবনেও লুসিল বলের ছেলে দেশি আর্নাজ জুনিয়রের জন্ম হয়। টেলিভিশন একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, পর্বটি দেখেছিলেন প্রায় চার কোটি ৪০ লাখ দর্শক। ছয় মৌসুমের চারটিতে নিলসেন রেটিংয়ে শীর্ষে ছিল ‘আই লাভ লুসি’। ১৯৫৭ সালে নিয়মিত সিরিজের সম্প্রচার শেষ হলেও পরে একই চরিত্রদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান তৈরি হয়। ফিল্মের মূল নেগেটিভের মালিকানা নিজেদের হাতে রাখার সিদ্ধান্তও লুসিল বল ও দেশি আর্নাজকে পুনঃপ্রচার থেকে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ করে দেয়। ৭৫ বছর পরও ‘আই লাভ লুসি’ প্রমাণ করে, শক্তিশালী অভিনয়, পরিচিত জীবনের গল্প এবং সৃজনশীল নির্মাণ একটি টেলিভিশন সিরিজকে সময়ের সীমা ছাড়িয়ে জনপ্রিয় করে রাখতে পারে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।