বাড়ছে ‘ঝাক্কি’র দৌরাত্ম্য, কম খরচে মাদকে ঝুঁকছে তরুণরা
রাজধানীর ডেমরা ও আশপাশের এলাকায় বাড়ছে নতুন ধরনের মাদক ‘ঝাক্কি’র ব্যবহার। কম খরচে নেশা করা যায় বলে মাদকসেবীদের একটি অংশ ফেনসিডিল ও ইয়াবার বিকল্প হিসেবে এর দিকে ঝুঁকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরবর্তী এবং অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি এলাকাগুলোতে মাদকের বিস্তার বেশি। ফেনসিডিলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম খরচের নেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।মাদকসেবীদের ভাষ্য, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ প্রচলিত মাদকের তুলনায় ‘ঝাক্কি’তে খরচ কম। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ঠান্ডা-কাশির সিরাপ ও ঘুমের ওষুধের অপব্যবহার করে এ ধরনের নেশা করলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।ডেমরা ও আশপাশের এলাকায় কিছু অসাধু ফার্মেসি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঠান্ডা-কাশির সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশির রোগীর সংখ্যা বাড়ায় নেশার উদ্দেশ্যে ওষুধ কেনা ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।এদিকে এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা ও মদ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। আরও পড়ুন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৮ বিভাগেই বৃষ্টির সম্ভাবনাবাঁশেরপুলসহ কয়েকটি এলাকায় মদ সহজলভ্য এবং পার্সেলের মাধ্যমেও মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।রাজাখালী এলাকার এক অভিভাবক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চললেও ‘ঝাক্কি’র বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।চিকিৎসক শামীম মিছির জানান, ঘুমের ওষুধ ও ঠান্ডা-কাশির সিরাপ একসঙ্গে সেবনে অতিরিক্ত তন্দ্রা, শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, ভারসাম্যহীনতা, অজ্ঞান হওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে।ডেমরা থানার ওসি মোহাম্মদ তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের বিষয়ে তারা অবগত। তবে সিরাপের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নেশার বিষয়টি তিনি নতুন করে জেনেছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান নয়—ওষুধ বিক্রিতে নজরদারি, তরুণদের সচেতনতা এবং পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেমরায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।