দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বন্ধ বিমানবন্দর ফের চালুর উদ্যোগ, আকাশপথে নতুন নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা

দেশের বিভিন্ন জেলায় বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা বিমানবন্দরগুলো নিয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুনরায় চালু করা সম্ভব কি না—তা যাচাই করতে শুরু হচ্ছে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে সংযোগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আনা।বর্তমানে দেশে মোট ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক— হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করে।অন্যদিকে সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দরগুলো শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ আরো পড়ুন , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন বেলারুশের রাষ্ট্রদূতফ্লাইট পরিচালনা করছে।তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত বেশ কয়েকটি ছোট বিমানবন্দর—যেমন ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী—এখনো বন্ধ বা সীমিত ব্যবহারে রয়েছে। এসব বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনাই এখন যাচাই করছে সরকার।মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর বর্তমানে যাত্রীসেবা না দিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে—ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়ন করে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে আকাশপথে যুক্ত করে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।এদিকে নতুন বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বগুড়া বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-কে।সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক হবে, বাড়বে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কমবে আঞ্চলিক বৈষম্য।

বন্ধ বিমানবন্দর ফের চালুর উদ্যোগ, আকাশপথে নতুন নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা