মানব ইতিহাস ও ধর্মীয় বর্ণনায় অনন্য এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আলোচিত হয়েছেন জুলকারনাইন। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক, যিনি আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতা, জ্ঞান ও উপায়-উপকরণকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করেছিলেন। পবিত্র গ্রন্থ আল-কাহাফ সূরা-এর ৮৩ থেকে ৯৮ নম্বর আয়াতে তাঁর জীবন ও অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা তাঁকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং নানা ধরনের সামর্থ্য দান করেন। কিন্তু তিনি এই ক্ষমতাকে অহংকারের পরিবর্তে ন্যায় ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে পরিচালনা করেন। তাঁর জীবনের প্রথম যাত্রায় তিনি পশ্চিম দিকে গিয়ে এক জাতির মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচারের নীতিতে কাজ করেন—যারা অন্যায় করে তাদের শাস্তি এবং যারা ঈমান ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দেন।আরও পড়ুন, বনানীতে রহস্যঘেরা গেস্ট হাউজ, প্রশ্নের পর প্রশ্নপরবর্তীতে তিনি পূর্বদিকে যাত্রা করেন এবং এমন এক জাতির সন্ধান পান, যারা প্রাকৃতিকভাবে কঠিন পরিবেশে বসবাস করত। তিনি তাদের বাস্তবতা অনুযায়ী আচরণ করেন, যা নেতৃত্বের দূরদর্শিতার এক অনন্য উদাহরণ। তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে তিনি দুই পাহাড়ের মাঝখানে একটি দুর্বল জাতির কাছে পৌঁছান, যারা ইয়াজুজ ও মাজুজের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। তারা তাঁর কাছে একটি প্রতিরক্ষা প্রাচীর নির্মাণের অনুরোধ জানায়।আরও পড়ুন, নববর্ষ উদযাপন কি ইসলামে গ্রহণযোগ্য?জুলকারনাইন তাদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, তাঁর প্রতিপালক যা দিয়েছেন সেটাই যথেষ্ট। এরপর তিনি লোহা ও গলিত তামা ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী প্রাচীর নির্মাণ করেন, যা সেই জাতিকে নিরাপত্তা প্রদান করে। কাজ শেষ হওয়ার পরও তিনি কোনো কৃতিত্ব দাবি করেননি; বরং সবকিছুকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করে বিনয়ের পরিচয় দেন। ইতিহাস ও ধর্মীয় ব্যাখ্যায় জুলকারনাইনের এই কাহিনি ন্যায়বিচার, বিনয়, দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণের এক অনন্য শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।