টঙ্গীতে ভুমি জালিয়াত চক্রের কারনে সাধারণ জনগন দিশেহারা: জালিয়াতি করে নামজারির চাঞ্চল্যকর তথ্য
গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমি জালিয়াত চক্র চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলে নামজারি ও জমাভাগ মোকদ্দমার শুনানিকালে একটি ভুয়া সাফকবলা দলিল ধরা পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই চক্রের রাঘববোয়ালদের নাম ও জালিয়াতির অভিনব সব কৌশল।ঘটনার সূত্রপাত: একটি ভুয়া দলিল ও নামজারি মামলা অনুসন্ধানে জানা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার ভাদাম গ্রামের অনুশান্ত রায়ের পুত্র প্রমানন্দ রায় ১১৯২৩/২০২৫-২৬ নম্বর একটি নামজারি মোকদ্দমা দায়ের করেন। ওই মোকদ্দমায় তিনি ১৮১২০/২০২৫ নম্বরযুক্ত একটি সাফকবলা দলিল দাখিল করেন। তবে দলিলে উল্লিখিত তথ্যের গরমিল দেখে বিবাদীপক্ষ সন্দেহ প্রকাশ করে।আরও পড়ুন, পত্নীতলায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিতপরবর্তীতে টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ওই নম্বরের মূল দলিলের সইমহুরী নকল সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, মূল ১৮১২০/২০২৫ নম্বরটি ছিল আসলে একটি বায়না চুক্তিপত্র, কোনো সাফকবলা দলিল নয়। এমনকি বায়না দলিলের দাতা, গ্রহীতা এবং ঠিকানার সাথে নামজারিতে দাখিলকৃত দলিলের কোনো মিল নেই। অর্থাৎ, জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া সাফকবলা দলিল তৈরি করে অন্যের মালিকানা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।অনুসন্ধানে উঠে আসা মূল হোতাদের পরিচয়এই জালিয়াত সিন্ডিকেট নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। চক্রের নেত্বৃত্বে থাকা দুইজনের নাম উঠে এসেছে। এর একজন হলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ এলাকার মৃত আম্বর আলীর পুত্র কামরুল মিয়া, যিনি এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। অন্যজন হলেন শহীদ এমএ ওহাব এন্ড সন্স রিয়েল এষ্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ রেজা।সিন্ডিকেটের আরও কয়েকজনের নাম অনুসন্ধানে উঠে এসেছে:এরা হলেন, একেএম মাহাবুবুর রহমান জাকারিয়া (মাহাবুব মাষ্টার), আজাহার আলী, মুহাম্মদ শওকত আলী (টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক), মোঃ জুনাইদ আলী (সভাপতি, টঙ্গী পশ্চিম থানা ওলামা লীগ এবং এহসান সিটির দারুল উলুম মহিউস সুন্নাহ নিজামিয়া মাদরাসার পৃষ্ঠপোষক) নূর মোহাম্মদ, হারুন অর রশিদ, নাছিরআলী আকবরসহ আরো কয়েকজন।আরও পড়ুন, ঈশ্বরদী থানার ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগস্থানীয়দের আতঙ্ক ও প্রতিক্রিয়াঅনুসন্ধানকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে রাজি হননি। মূল হোতা কামরুল ও শহীদ রেজা অনেকটা ঔদ্ধত্যের সাথে জানান, "আগে এলাকায় খোঁজ নেন, পরে কথা বলা যাবে।"আরও পড়ুন, মোরেলগঞ্জে সংঘর্ষ, আহত-৫এলাকাবাসীর মধ্যে এই চক্রকে নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি জানান, এই চক্রটি রাজনৈতিক ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি দখল ও জাল দলিল তৈরির কাজ করে আসছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসমাইল হোসেন জানান, এই এলাকায় একটি অসাধু চক্র জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় রয়েছে। ভূমিদস্যু এই সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।