সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান। তবে সীমান্ত পার হওয়ার আগেই পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছেন তিনি। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন সহযোগী অমিত হাসান ওরফে শিপনকেও।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শুইলপুর এলাকায় সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা ওই এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং সুযোগ বুঝে সীমান্তপথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।গ্রেপ্তার নাহিদ হাসান সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। অমিত হাসান ওরফে শিপন (৩০) একই এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে। তবে শিপনের গ্রামের বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলার শুইলপুরে।সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান সীমান্তবর্তী শুইলপুর এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালানো হয়। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জাকারিয়া হত্যার পর নাহিদ ও শিপন শুইলপুর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শিপনের সঙ্গে নাহিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় হত্যাকাণ্ডের পর তাকে নিজের গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।আরও পড়ুন, গাজীপুরে প্রথম ‘কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ’ অনুষ্ঠিতযেভাবে হত্যার শিকার জাকারিয়া- গত ২ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে বাপ্পি হাসানের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে নাহিদসহ কয়েকজন বাপ্পিকে মারধর শুরু করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এইচএসসি ফলপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী জাকারিয়া খাঁন।এ সময় নাহিদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন জাকারিয়া। পরে তার মৃত্যু হয়। তরুণ এই কলেজছাত্রের হত্যাকাণ্ডে সাতক্ষীরাজুড়ে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ঘটনার পর নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে গত শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও সাতজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ও তার সহযোগী শিপন গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হত্যার পর আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রধান আসামি নাহিদ ও তার সহযোগী শিপনকে জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া হত্যার ঘটনার আগে-পরে তাদের গতিবিধি এবং সীমান্তপথে পালানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।