দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

যে উঠানে ছিল হাসির শব্দ, সেখানে এখন চারটি কবর

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকা এখন শোকে স্তব্ধ।বাহাদুরপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনায় নিহত হয়েছেন হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি সুলতানা, তাদের ৯ বছরের ছেলে পারভেজ রহমান এবং মাত্র ৩ বছরের কন্যা সাদিয়া আক্তার।ঘটনার পর গতকাল বুধবার বিকেলে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো গ্রামে আনা হয়। এরপর বাড়ির উঠানে পাশাপাশি রাখা হয় চারটি মরদেহ, যেখানে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।স্বজনদের আহাজারি আর হাজারো মানুষের ভিড়ে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। বাদ আসর জানাজা শেষে চারজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।আরো পড়ুন , অপরাধীদের ছাড় নয়, টঙ্গীতে কঠোর অবস্থান : ডিসি মহিউদ্দিনস্থানীয়রা জানান, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিল।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ। এ ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম এবং তার দুই ভাগ্নে শাহিন ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।পুলিশ জানায়, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জমি বিরোধের মতো বিষয় কীভাবে এমন নিষ্ঠুর রূপ নিতে পারে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে।

যে উঠানে ছিল হাসির শব্দ, সেখানে এখন চারটি কবর