দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রমজানে চট্টগ্রামের বাজারে চলছে ‘ভেজাল ঘি’র রমরমা বাণিজ্য

পবিত্র রমজান মাস এলেই চট্টগ্রাম নগরীর বাজারগুলোতে হঠাৎ বেড়ে যায় ঘি এর চাহিদা। ইফতার ও সেহরির নানা খাবারে ঘি ব্যবহারের কারণে বিক্রি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। আর সেই সুযোগেই সক্রিয় হয়ে ওঠে একাধিক অসাধু চক্র। নগরীর বিভিন্ন বাজারে এখন প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ঘি যা তৈরি হচ্ছে পামওয়েল, ডালডা, কৃত্রিম সুগন্ধি ও রাসায়নিক মিশিয়ে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পাইকারি বাজারগুলোতে ড্রামভর্তি এসব ভেজাল ঘি সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে তা খোলা অবস্থায় অথবা নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল লেবেল লাগিয়ে বোতলে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। দেখতে ও গন্ধে আসল ঘির মতো হলেও এতে নেই প্রকৃত ঘির কোনো পুষ্টিগুণ। নগরীর খাতুনগঞ্জ, চকবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও কর্ণফুলী মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে খোলা ঘি অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আসল ঘির দাম যেখানে কেজি প্রতি কয়েক হাজার টাকা, সেখানে কিছু দোকানে খোলা ঘি বিক্রি হচ্ছে তার অর্ধেক দামে। এতে ক্রেতাদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর আশপাশের কিছু ছোট কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব ভেজাল পণ্য। পাম অয়েল ও ভেজিটেবল অয়েল গরম করে তাতে ডালডা বা বনস্পতি মেশানো হয়। এরপর কৃত্রিম ফ্লেভার ও রং ব্যবহার করে ঘির মতো সুগন্ধ ও রং তৈরি করা হয়। পরে ড্রামে ভরে তা বাজারে সরবরাহ করা হয়।আরও পড়ুন, বান্দরবানে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে এপেক্স ক্লাবের ঈদ উপহার ও ইফতার মাহফিলখাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ভেজাল ঘি দীর্ঘদিন খেলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এতে লিভারের সমস্যা, হৃদরোগের ঝুঁকি, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এসব ভেজাল খাদ্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ হলে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে এই চক্র।আরও পড়ুন, নেত্রকোনায় অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে স্বামী-স্ত্রীসহ আটক ৩                      মাদারীপুরের ডাসারে র‌্যাবের হাতে হামিম বেপারি নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটকভোক্তাদের অভিযোগ রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে খেলছে। বাজারে কঠোর নজরদারি না থাকায় তারা সহজেই এসব ভেজাল পণ্য বিক্রি করতে পারছে। নগরবাসীর দাবি, রমজান মাসে ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে পাইকারি বাজার ও ছোট কারখানাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এই অবৈধ কারবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সচেতন মহলের মতে, ইফতারের টেবিলে যে খাবার মানুষ পবিত্রতার সঙ্গে গ্রহণ করে, সেখানে যদি ভেজাল ঢুকে পড়ে তাহলে তা শুধু প্রতারণা নয় জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।

রমজানে চট্টগ্রামের বাজারে চলছে ‘ভেজাল ঘি’র রমরমা বাণিজ্য