দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ভাড়া বাসায় ডেকে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

বাহাদুরপুরে ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে হামলার অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন বাহাদুরপুর ভিম বাজার এলাকায় এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত যুবক বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে বাহাদুরপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সংবাদ পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আজমির শরীফ (২৬) ও তাঁর স্ত্রী কেয়া খাতুনকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কী ঘটেছিল সেদিন রাতে? পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আহত যুবকের নাম নাঈম (৩০)। তাঁর পিতা রফিকুল ইসলাম এবং মাতা নাসিমা বেগম। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার চুড়ালী এলাকায়। তিনি গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন বাহাদুরপুরে রফিকুল ইসলাম জর্জের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।আরো পড়ুন,সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে গাবুরায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন অভিযুক্ত কেয়া খাতুনের সঙ্গে নাঈমের পূর্বপরিচয় ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার রাতে নাঈম কেয়া খাতুনকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কৌশলে তাঁকে কেয়া খাতুন ও তাঁর স্বামী মো. আজমির শরীফের ভাড়া বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নাঈমের পুরুষাঙ্গ কর্তন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আলোচনা স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কারও কারও ধারণা, নাঈম ও কেয়া খাতুনের মধ্যে আগে থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্বামীর কাছে তাঁদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরা পড়ার পর এ ঘটনা ঘটেছে বলেও অনেকে দাবি করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, স্বামীর কাছে নিজের অবস্থান ভালোভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে কেয়া খাতুন এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব বক্তব্যের কোনোটি এখনো পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা যায়নি। ফলে পুরোনো সম্পর্ক, অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরা পড়া কিংবা ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধের বিষয়গুলো আপাতত স্থানীয়দের ধারণা ও আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ঘটনার পর আহত নাঈমকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত চিকিৎসা-তথ্য পাওয়া যায়নি। গুরুতর শারীরিক আঘাতের কারণে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আজমির শরীফ (২৬) ও তাঁর স্ত্রী কেয়া খাতুন (২৬)। আজমির শরীফের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ এলাকার মির্জাপুর গ্রামে এবং কেয়া খাতুনের বাড়ি বগুড়া জেলার ধুনট থানার কালেরপাড়া এলাকায়। তাঁরা দুজনই গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন বাহাদুরপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আরো পড়ুন,লুটপাটে দেশের স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্য মন্ত্রীপুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার নির্দিষ্ট ধারা, আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিস্তারিত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক জিএমপি সদর থানার ফ্ল্যাশ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঘটনার পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধ থেকে এমন গুরুতর ঘটনা ঘটে থাকলে তা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ভাড়া বাসায় ডেকে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২