গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে, কমছে লোডশেডিং তবু স্বস্তি পুরোপুরি নয়
সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় অতি সংকট পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। গত দুই সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি কমেছে। তবে রাজধানী ও বড় শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং এখনো বেশি।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য বলছে, সোমবার দুপুর ১২টায় ১৪ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৮৯৩ মেগাওয়াট। অথচ গত দুই সপ্তাহে একই সময়ে লোডশেডিং প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল।গ্যাস সরবরাহেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে দৈনিক প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ৩১০ থেকে ৩২০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে পরিস্থিতি মোটামুটি সামাল দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সরবরাহ ২০০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেলে সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সেই পর্যায়ে নেমে গেলেও এখন তা কিছুটা বেড়েছে।আরও পড়ুন, বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ, বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কাবিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের ঘাটতিই বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম বড় কারণ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে জাতীয় গ্রিডে।তবে স্বস্তির মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে। সৌদি আরামকোর প্রায় ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘আল হামরা’ নামের একটি জাহাজ প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ না করায় কার্গোটি গ্রহণ করেনি পেট্রোবাংলা।যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। বিকল্প কার্গো সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এদিকে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং পুরোপুরি কমেনি। বৃষ্টি ও তুলনামূলক কম চাহিদার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গরম বাড়লে আবারও বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।