দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সাবেক আ.লীগ নেত্রীর বিএনপি মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় গোপালগঞ্জ থেকে আলোচনায় এসেছেন সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)। তালিকায় তার নাম আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ তিনি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দলীয় তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তার নাম ছিল ২৭ নম্বরে। তবে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই ওই কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ তার বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেছে।আরও পড়ুন, ৫ আগস্ট পর শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছে, তবে সৌজন্য সীমিত ছিল : জিএম কাদেরঅন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনা হচ্ছে গোপালগঞ্জের প্রভাবশালী “ঠাকুর পরিবার”কে ঘিরে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব জেলার ভোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই পরিবারের আরেক অংশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সুবর্ণা শিকদারের মনোনয়ন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এদিকে একই তালিকায় সাবেক সরকারি আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাধবী মারমার নামও রয়েছে, যিনি পূর্বে সরকারি দলীয় দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা যায়।আরও পড়ুন, সংরক্ষিত আসনে বিএনপির চমক, তালিকায় নতুন মুখ মানসুরা আক্তারমনোনয়ন ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মনোনয়ন ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সাবেক আ.লীগ নেত্রীর বিএনপি মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক