নরসিংদীতে আলোচিত আমেনা হত্যায় জরিত বাবাসহ গেফতার ৯
নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে বিরক্ত হয়েই তাকে হত্যা করে সৎ বাবা আশরাফ আলী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বেলা ২.৩০ মিনিটে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কায্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি বলেন, মাধবদী থানার আলোচিত আমেনা হত্যার ঘটনার আসামী নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরার (২৮) সাথে পূর্ব হতে প্রেমের সম্পর্ক থাকার ফলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। অপরদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আসামী হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনাকে হযরত আলীর বাড়িতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে। পরে এঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের মাতবররা সালিশের মাধ্যমে সমাধান করে দিবে বলে জানায়। এদিকে আমেনার সৎ পিতা আশরাফ আলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই আমেনাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তিনি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করেছে।আরও পড়ুন, বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পদপ্রার্থী দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশাপুলিশ সুপার জানায়, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলীর কথাবার্তা সন্দেজনক হওয়ায় ও আসামীদের জবানবন্দির ফলে তাকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া, প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে মাওনা, গাজীপুর ও আরেক অভিযুক্ত হযরত আলীকে গৌরীপুর, ময়মনসিংহ থেকে ইতোপূর্বে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় ০৪ ধর্ষকসহ মোট ০৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় আমেনার সৎ বাবা জানায় বুধবার রাতে বখাটে চক্রটি তরুণী আমেনাকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে।