অভিযানের পরও অধরা বাহার, গুলশানে নেপথ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে কথিত স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ নতুন নয়| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, নজরদারি ও সতর্কতার পরও কিছু ব্যক্তি ও চক্র নানা কৌশলে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে| এমনই এক আলোচিত নাম বাহার, যাকে ঘিরে সম্প্রতি গুলশান এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে| ব্যবসায়ী মহল ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, গুলশানের ৯৯ ন¤^র রোডের ৩৩/এ নং বাড়ির দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্পা সেন্টারের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল একটি চক্র| ওই চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাহারের নাম সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাহারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি| ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি| আরও পড়ুন: প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে বাহারের গুলশানে কথিত স্পা ব্যবসা?সম্প্রতি গুলশান থানার একটি অভিযানের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে| অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের আগেই বা অভিযানের সময় বাহার নিজেকে আড়ালে নিয়ে যান এবং এরপর থেকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও তার নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে|স্থানীয়দের দাবি, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও সেটি পরিচালিত হওয়া নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে| অনেকেই মনে করছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে| যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি| অভিযোগ রয়েছে, বাহারের অনুপস্থিতিতেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে| বিশেষ করে সুমন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে| অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাহারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এই ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন|আরও পড়ুন: গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান: মালিকসহ নারী সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়াধীনএদিকে বাড়ির মালিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে| স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি| বরং তাদের সহযোগিতার কারণেই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পেরেছে বলে অভিযোগ রয়েছে| তবে বাড়ির মালিক কিংবা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি| তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা, বিউটি সেলুন, ওয়েলনেস সেন্টার কিংবা অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়| গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে| সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গুলশান থানার সাম্প্রতিক অভিযানের পর কয়েকজন ব্যক্তি নজরদারির আওতায় রয়েছেন| অভিযানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে|আরও পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা: গ্রামের নীরব লজ্জা ও অপরাধের পেছনের গল্পএ বিষয়ে গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না| অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে| একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন বা আত্মগোপনে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে|স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গুলশান একটি কূটনৈতিক ও আবাসিক এলাকা| এখানে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে| তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন| সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের ভূমিকাও তদন্ত করা জরুরি| অন্যথায় মূল হোতারা আড়ালে থেকে গেলেও কার্যক্রম বন্ধ হয় না|আরও পড়ুন: নাম বিহীন আবাসিক হোটেল চলছে গাজীপুর চন্দ্রায়,, "শাজাহান, বাবুল, জাকির সিন্ডিকেট "অভিযোগ রয়েছে, বাহার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে বা বিভিন্ন ব্যক্তিকে সামনে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন| ফলে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালিত হলেও অন্য মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ˆতরি হয়| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ দমনে তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হয়| কোনো ব্যক্তি প্রভাবশালী বা পরিচিত হলেই তাকে ছাড় দেওয়া হবে এমন সুযোগ নেই| সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে|আরও পড়ুন: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, গুলশানে সাম্প্রতিক অভিযানগুলো প্রমাণ করেছে যে প্রশাসন অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে| তবে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে| একই সঙ্গে ভবন মালিক, ব্যবস্থাপক এবং ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন|আরও পড়ুন: আম খাওয়ানোর প্রলোভনে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগগুলশান থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান| কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধ ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে| কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই| সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে| একই সঙ্গে যারা আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে|