দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা: গ্রামের নীরব লজ্জা ও অপরাধের পেছনের গল্প

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা নিয়ে উঠে এসেছে তার অতীত ও গ্রামীণ জীবনের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। কঠোর শাস্তির দাবিতে যখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ চলছে, তখন তার নিজ গ্রাম নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় নেমে এসেছে নীরবতা ও শোকের ছায়া।আরও পড়ুন, গুলশান বারিধারায় দোলার অবৈধ স্পা সেন্টার নিয়ে বিতর্কস্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্র কৃষিপ্রধান পরিবারে জন্ম নেওয়া সোহেল ধীরে ধীরে ছোট ছোট অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। জুয়া, মাদকাসক্তি ও চুরির অভিযোগ তার জীবনে অন্ধকারের সূচনা করে। একাধিক বিয়ে ও পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি।আরও পড়ুন, উত্তরায় পুলিশের নাকের ডগায় গ্রান্ড প্লাজায় সোহেলের অসামাজিক কার্যক্রমগ্রামের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান সোহেল। এরপর প্রায় তিন বছর তার অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আর কিছুই জানতেন না স্বজনরা।একজন গ্রামবাসী বলেন, তিনি সাধারণ একজন যুবক ছিলেন, তবে ধীরে ধীরে নেশা ও অপরাধের দিকে চলে যান। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি।সোহেলের বৃদ্ধ বাবা জাকির আলী বলেন, পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং এই ঘটনায় তারা লজ্জিত ও ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানান, অপরাধের দায় একমাত্র সোহেলের, তবে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা নির্দোষ। তারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।আরও পড়ুন, যমুনা অয়েলের মাসুদুল ইসলামকে ঘিরে ষড়যন্ত্রমূলক অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারে তুমুল সমালোচনার ঝড়এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।শিশু রামিসার মরদেহ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় দেশজুড়ে ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে।

রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা: গ্রামের নীরব লজ্জা ও অপরাধের পেছনের গল্প