এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহর পদত্যাগ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। দলের সকল পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। বুধবার রাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।এক বাক্যের ওই পদত্যাগপত্রে খালেদ সাইফুল্লাহ লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’ পদত্যাগের অনুলিপি এনসিপির সদস্যসচিব, দপ্তর সেল ও সকল কেন্দ্রীয় সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। খালেদ সাইফুল্লাহ এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারার স্বামী। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা।আরও পড়ুন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের মৃত্যু৩০ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে আরও দুই নেতা পদত্যাগ করেন। তারা হলেন– দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী। সোমবার রাতে নিজের ভেরিভায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মোস্তফা জামাল। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছাড়াও প্রচার-প্রকাশনা ও পরিবেশ সেলের সদস্য এবং দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সোশ্যাল মিডিয়া উপকমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছিলেন।ফেসবুক পোস্টে এনসিপির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জামাল। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং নতুন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি এনসিপি দিয়েছিল, দুঃখজনকভাবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দলটি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’ পুরোনো রাষ্ট্রকাঠামো ও একই রাষ্ট্রীয় কলকবজা ভাঙার পরিবর্তে এনসিপি ধীরে ধীরে ঠিক সেই ব্যবস্থার ভেতরেই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামাল। তিনি লেখেন, ‘দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সম্মান মাথায় রেখে এই সংগঠনের সব ব্যর্থতার দায় আর নিজের কাঁধে নিয়ে এক মুহূর্তও থাকতে চাই না।’আরও পড়ুন, বিদায় নিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’ লক্ষ মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্নআগের দিন রোববার রাতে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলটির কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি এনসিপি থেকে ‘আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদ’-এর সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজাদ খান মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি। গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে এনসিপির কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।ফেসবুক পোস্টে আজাদ খান বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী পালনবাদী রাজনীতির স্বপ্ন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হই। সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব গ্রহণ করি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন এখানে তার স্পষ্ট ঘাটতি আমি অনুভব করেছি। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি।’